ওপেক ছাড়ছে UAE! মধ্যপ্রাচ্যে বড় ভাঙন, এর ফলে কি সস্তা হবে পেট্রোল-ডিজেল? জানুন ভারতের লাভ না ক্ষতি

দীর্ঘ ৬০ বছরের পথচলা শেষে জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মূলত আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এবং তেল উৎপাদন নীতি নিয়ে মতবিরোধই এই ঐতিহাসিক বিচ্ছেদের প্রধান কারণ। ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে সৌদি আরবের সাথে আমিরাতের কৌশলগত অবস্থানের অমিল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি বনাম মূল্য নিয়ন্ত্রণ
সৌদি আরব সাধারণত তেলের দাম চড়া রাখতে উৎপাদন কমানোর পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে আমিরাতের কৌশল এর বিপরীত। তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বদলে বর্তমান সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে কম দামে বেশি তেল বিক্রি করে দ্রুত মুনাফা অর্জনে আগ্রহী। ওপেকের কড়া বিধিনিষেধের কারণে আমিরাত এতদিন চাইলেও স্বাধীনভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারছিল না। এই জোট ত্যাগের ফলে তারা এখন নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে পারবে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ঘটনা দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে, আমিরাত উৎপাদন বাড়িয়ে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে পারে, যা আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক। অন্যদিকে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া এই ফাটল মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। এর ফলে সেখানে কর্মরত প্রায় ৯০ লাখ ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে আসার অপেক্ষায় থাকা বড় বিনিয়োগগুলোও থমকে যেতে পারে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ৬০ বছর পর সদস্য দেশগুলোর সাথে নীতিগত পার্থক্যের কারণে ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- তেলের উৎপাদন কমিয়ে দাম বাড়ানোর সৌদি নীতির বিপরীতে উৎপাদন বাড়িয়ে মুনাফা করতে চায় আমিরাত।
- এই বিচ্ছেদের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত সরাসরি লাভবান হতে পারে।
- মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৃদ্ধি পেলে সেখানে থাকা প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
