ওমান উপকূলে তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় আমেরিকার নতুন সাফাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানোর পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, আক্রান্ত জাহাজটিকে হামলার আগে ৬০ বারেরও বেশি মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল এবং ইঞ্জিনরুম খালি করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও বরাদ্দ করা হয়েছিল।
হামলার কারণ ও মার্কিন দাবি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেল্লো’ নামের জাহাজটিতে মার্কিন বিমান থেকে প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি গোপন নৌবহরের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অবৈধভাবে অপরিশোধিত তেল পাচার করছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করার পরও সেটি না থামায় এবং আন্তর্জাতিক অবরোধ কঠোরভাবে বজায় রাখার স্বার্থে মার্কিন সেনা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক ১৫ মিনিট আগেও জাহাজের কর্মীদের ইঞ্জিনরুম খালি করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার প্রভাব ও কূটনৈতিক সংঘাত
এই প্রাণঘাতী হামলার পর ২৮ জন নাবিক সংবলিত জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। পরবর্তীতে ২১ জন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আদিত্য শর্মা, শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং পাটনালা সুরেশন নামে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর ভারতের বিদেশমন্ত্রক দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র নিন্দা জানায় এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিরোধীরা সরকারের বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। এই ঘটনার ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
