ওয়াংখেড়েতে সল্ট কোহলির তান্ডব, মুম্বইকে ১৮ রানে হারিয়ে জয়ী বেঙ্গালুরু

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হাই-স্কোরিং থ্রিলারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ১৮ রানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ব্যাটারদের বিধ্বংসী মেজাজ এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ভর করে ঘরের মাঠে মুম্বইকে পর্যুদস্ত করল আরসিবি।
আরসিবির রানের পাহাড় ও ওপেনিং জুটি
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে বেঙ্গালুরু। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বিরাট কোহলি। তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ফিল সল্ট। কোহলি ও সল্টের ১২০ রানের ওপেনিং জুটি মুম্বই বোলারদের লাইন-লেন্থ এলোমেলো করে দেয়। সল্ট মাত্র ৩৬ বলে ৭৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। বিশেষ করে মিচেল স্যান্টনারকে মারা পরপর তিনটি ছক্কা গ্যালারিতে উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
পাটিদারের বিধ্বংসী ইনিংস ও কোহলির ক্লাসিক হাফসেঞ্চুরি
ফিল সল্ট বিদায় নিলেও আরসিবির রানের গতি কমেনি। তিনে নামা রজত পাটিদার মাত্র ১৭ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে মুম্বইয়ের ওপর চাপ বজায় রাখেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলি ৩৮ বলে ৫০ রান করে ১৫তম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ইনিংসের শেষ দিকে টিম ডেভিডের অপরাজিত ৩৪ রানের ক্যামিও আরসিবিকে ২৪০ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।
মুম্বইয়ের লক্ষ্যভেদ ও রোহিত শর্মার চোট
২৪১ রানের বিশাল রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রায়ান রিকেলটন ২২ বলে ৩৭ রান করে প্রত্যাশার পারদ চড়ালেও বড় ধাক্কা আসে রোহিত শর্মার চোটের খবরে। ইনজুরির কারণে রোহিত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় মুম্বইয়ের টপ অর্ডারে বড় শূন্যতা তৈরি হয়। সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পান্ডিয়া ইনিংস গড়ার চেষ্টা চালালেও আরসিবির আঁটসাঁটো বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় মুম্বই।
বোলারদের নিয়ন্ত্রণ ও রাদারফোর্ডের বৃথা লড়াই
মুম্বইয়ের ব্যাটারদের আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ক্রুনাল পান্ডিয়া ও সূযশ শর্মা। ক্রুনাল রান আটকে চাপ তৈরি করেন এবং সূযশ কার্যকর স্পেল করে মুম্বইকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। শেষ দিকে শেরফান রাদারফোর্ড ৩১ বলে অপরাজিত ৭১ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। রাদারফোর্ডের এই বিধ্বংসী ব্যাটিং হারের ব্যবধান কমালেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। নির্ধারিত ওভারে ২২২/৫ রানে থেমে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ
এই জয়ের নেপথ্যে আরসিবির টপ অর্ডার ব্যাটারদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। পাওয়ার প্লে-তে ১২০ রানের জুটি মুম্বইকে মানসিকভাবে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে দিয়েছিল। অন্যদিকে মুম্বইয়ের বোলিং বিভাগ রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া এবং রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া তাদের হারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
এক ঝলকে
- বিজেতা: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (১৮ রানে জয়ী)
- আরসিবির স্কোর: ২৪০/৪ (২০ ওভার)
- মুম্বইয়ের স্কোর: ২২২/৫ (২০ ওভার)
- সেরা ব্যাটার (আরসিবি): ফিল সল্ট (৭৮), রজত পাটিদার (৫০), বিরাট কোহলি (৫০)
- সেরা ব্যাটার (মুম্বই): শেরফান রাদারফোর্ড (৭১*)
- টার্নিং পয়েন্ট: রোহিত শর্মার চোট এবং কোহলি-সল্টের ১২০ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ।
