“ওরা দুষ্কৃতী নয়, সাধারণ ছাত্র-জনতা”, কলকাতার মিছিলে ধৃতদের মুক্তি নিয়ে সরব SFI – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতায় নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত মিছিলে অশান্তির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার মাত্র ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন মুখ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। সরকার পক্ষের আইনজীবী এই জামিনের বিরোধিতা না করায় ধৃতদের মুক্তির পথ দ্রুত প্রশস্ত হয়।
তবে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার পরেই তাঁদের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
উল্লেখ্য, এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর ইট ও বোতল ছোড়ার পাশাপাশি কর্তব্যরত সাংবাদিকদের নিগ্রহ করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। এমনকী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন।
তৃণমূল ও কেন্দ্রের সমঝোতা?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসক দলের সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠকের পরই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ১৬ জনের মুক্তি সেই প্রতিশ্রুতির ফল—এমন দাবি জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছে এসএফআই (SFI)।
এই প্রসঙ্গে SFI-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাঞ্জন দে স্পষ্ট ভাষায় জানান, “কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতার ভিত্তিতে এরা ছাড়া পায়নি। বিহার সরকার এফআইআর প্রত্যাহারের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।”
‘এরা দুষ্কৃতী নয়, সাধারণ ছাত্র-জনতা’—পাল্টা দেবাঞ্জন
মিছিলের দিন সাংবাদিক নিগ্রহ ও হিংসাত্মক ঘটনার পর বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু বহিরাগত ও দুষ্কৃতী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জামিনে মুক্ত হওয়া ধৃতদের মালা পরিয়ে বরণ করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে কি যাঁদের একসময়ে দুষ্কৃতী বলা হয়েছিল, এখন তাঁদেরই সমর্থন করছে SFI?
এই প্রশ্নের জবাবে এসএফআই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন:
“এই প্রশ্নটাই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেদিন এই ছেলেদের আদালতে তোলা হয়েছিল, সেদিনও আমরা তাদের পাশে ছিলাম। এরা কোনো দুষ্কৃতী বা বহিরাগত নয়, এরা প্রত্যেকেই সাধারণ ছাত্র-জনতা। সাধারণ ছাত্রদের অধিকারের দাবিতে তারা মিছিলে অংশ নিয়েছিল। যদি এরা সত্যিই বোতল ছোড়া বা সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকত, তবে আদালত কখনই এত সহজে তাদের জামিন দিত না। এদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল।”
আসল অপরাধী কারা? নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বাম ছাত্র নেতাদের
তাহলে সেই দিন ঠিক কারা পুলিশের ওপর হামলা চালাল এবং সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলল? এই প্রশ্নের উত্তরে দেবাঞ্জনবাবু জানান, “আসল দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক, আমরাও সবরকমভাবে তাদের সাহায্য করব। কিন্তু কোনোভাবেই নির্দোষ সাধারণ পড়ুয়াদের বলির পাঁঠা বানানো চলবে না।”
১৬ জনের এই জামিন এবং পরবর্তীতে এসএফআই-এর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
