ওষুধের পুরো পাতা কিনতে বাধ্য করছে দোকানদার? ড্রাগ লাইসেন্স বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি! – এবেলা

ওষুধের পুরো পাতা কিনতে বাধ্য করছে দোকানদার? ড্রাগ লাইসেন্স বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা মাত্র ৫ বা ৬টি ট্যাবলেট, কিন্তু দোকানদার বাধ্য করছেন পুরো ১০টি ট্যাবলেটের পাতাই (Strip) কিনতে! দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ আসছিল বর্ধমান শহরের একাধিক খুচরো ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে। এই অনিয়ম রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক ফার্মেসিতে সারপ্রাইজ ভিজিট ও অভিযান চালান ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের আধিকারিকরা।

কী কী নজরদারি চালানো হলো?

অভিযান চলাকালীন আধিকারিকরা দোকানের স্টক রেজিস্টার ও কেনাবেচার ক্যাশ মেমো গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হয়। আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দেন— ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রোগী বা ক্রেতার ঠিক যতটা ওষুধ প্রয়োজন, পাতা কেটে ততটাই বিক্রি করতে হবে। কোনোভাবেই পুরো পাতা কিনতে বাধ্য করা যাবে না।

ব্যবসায়ীদের অজুহাত ও লোকসানের যুক্তি

অন্যদিকে, ওষুধের পাতা কেটে বিক্রি না করার পিছনে নিজেদের আর্থিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় বিক্রেতারা। এক ব্যবসায়ীর দাবি, “পাকা পাতা কেটে ওষুধ বিক্রি করলে অতিরিক্ত অংশটা কো ম্পা নি আর ফেরত নেয় না। বর্তমানে বাজারে প্রচুর ছাড় (১৪-২২%) দিতে হয়। ফলে অবিক্রীত ওষুধ জমে থাকলে আমাদের মোটা টাকা লোকসান হয়।”

ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের কড়া হুঁশিয়ারি

ব্যবসায়ীদের এই অজুহাত মানতে নারাজ প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমান জেলার ড্রাগ কন্ট্রোলার আব্দুল ওদুত কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “কোনও অবস্থাতেই ক্রেতাকে জোর করে পুরো পাতার ওষুধ গছানো চলবে না। নির্দেশ অমান্য করলে দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল হতে পারে।” সাধারণ মানুষকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, এমন ঘটনা ঘটলে উপযুক্ত প্রমাণ সহ ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগে অভিযোগ জানাতে।

ফার্মাসিস্টের ‘লাইসেন্স ভাড়া’ বিতর্ক

সূত্রের খবর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা মিলিয়ে প্রায় ৩,৫০০টি ওষুধের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩,১০০ দোকানেই কোনও স্থায়ী বা নিজস্ব ফার্মাসিস্ট থাকেন না! অভিযোগ, অনেক ফার্মাসিস্ট টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে অন্য কাজে যুক্ত থাকেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ঘুমের ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে নতুন নিয়মাবলী

নেশামুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিম বর্ধমানের চিত্তরঞ্জন ও রূপনারায়ণপুরের ওষুধের দোকান মালিকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে ‘বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (BCDA)। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়:

  • ঘুমের ওষুধ বা নারকোটিক্স: প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না। ফটোকপি দোকানে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • অ্যান্টিবায়োটিক: টানা ৩ মাস পর ডাক্তারের পুনরায় নতুন পরামর্শ পেলেই শুধু তা দেওয়া যাবে।
  • বেবি ফুড ও মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ: বেবি ফুড বিক্রির জন্য ‘ফুড রেজিস্ট্রেশন’ বাধ্যতামূলক। মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা নির্দিষ্ট বাক্সে চিহ্নিত করে রাখতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *