কট্টরপন্থীদের চাপে নতিস্বীকার, লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তার নামবদল নিয়ে পিছু হটল মরিয়ম সরকার! – এবেলা

কট্টরপন্থীদের চাপে নতিস্বীকার, লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তার নামবদল নিয়ে পিছু হটল মরিয়ম সরকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি বড় উদ্যোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থীদের চাপের মুখে পিছু হটল মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সরকার। লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তা, চক ও এলাকাগুলোর নাম পরিবর্তন করে দেশভাগের আগের তথা ব্রিটিশ আমলের পুরোনো নাম ফিরিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তীব্র বিতর্কের জেরে তা বাতিলের পথে হাঁটছে প্রশাসন। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি ‘ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প’-এর অধীনে এই নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কয়েক সপ্তাহ আগে পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এবং তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজে বৈঠক করে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। তাদের দাবি, পুরোনো নামগুলো ফিরিয়ে আনার অর্থ একটি মুসলিম প্রধান দেশে ‘হিন্দু ও শিখ ধর্মের পরিচয়’ পুনরুজ্জীবিত করা। এই ধর্মীয় মেরুকরণ ও রোষের মুখে পড়েই নওয়াজ সরকার এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম দ্বিধাগ্রস্ত।

যেসব নাম বদলের পরিকল্পনা ছিল

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাহোরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নাম বদলে আগের ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘ইসলামপুর’-এর নাম বদলে আগের ‘কৃষ্ণ নগর’ করা, ‘মৌলানা জাফর আলি খান চক’-এর নাম বদলে বিখ্যাত ‘লক্ষ্মী চক’ রাখা, এবং ‘মুস্তফাবাদ’ পরিবর্তন করে আগের ‘ধরমপুরা’ করা। এছাড়া ‘হামিদ নিজামী রোড’-এর নাম বদলে ‘টেম্পল স্ট্রিট’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম বদলে ‘জৈন মন্দির রোড’ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

জনমানসে পুরোনো নামের প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি

ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হতেই লাহোরের ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন মহম্মদ আলি ইজাজ দাবি করেছেন যে, নাম বদলের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল আলোচনার স্তরে রয়েছে। অথচ গত ২০ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রেস রিলিজ জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছিল। লাহোর হেরিটেজ অথরিটির কর্মকর্তাদের মতে, সরকারিভাবে নাম যা-ই হোক না কেন, সাধারণ মানুষ আজও এই জায়গাগুলোকে কৃষ্ণনগর বা লক্ষ্মী চক বলেই চেনে এবং সরকারি নথিতেও অনেক সময় পুরোনো নামই ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কট্টরপন্থীদের চাপের কাছে সরকারের এই নতিস্বীকারের ফলে পাকিস্তানের বহুমাত্রিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির রক্ষণশীল মনোভাবকেই আরও জোরালো করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *