কড়া নিরাপত্তায় আদালতে ফলতার জাহাঙ্গির, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে আনা হয় ফলতার ‘পুষ্পা’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানকে। আদালত চত্বর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতিতে ঘিরে রাখা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মূলত তোলাবাজি, হুমকি, এলাকা দখল এবং হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জনরোষ ও বেআইনি কারবারের অভিযোগ
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফলতার শ্রীরামপুরে জাহাঙ্গিরের দলীয় কার্যালয়ে আছড়ে পড়ে জনরোষ। ভাঙচুর করা হয় তার তালাবন্ধ বাড়ি ও গাড়িতেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গিরের ওই কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী, চশমা এবং মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রকৃত উপভোক্তাদের না দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে মজুত রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সোমাবার নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন জলট্যাঙ্কি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে, যার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক উত্থান থেকে গ্রেপ্তার
জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাধারণ দর্জি থেকে ধাপে ধাপে তিনি পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটালেও, ফলাফলের পরেই তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আপাতত পুলিশি হেফাজতে থেকে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং কোথায় কত বড় জাল বিস্তার করে রাখা হয়েছিল, তদন্তকারীরা সেই তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
