কনফার্ম টিকিট থাকলেও পুরো পথ কাটল দাঁড়িয়ে, যাত্রী হেনস্থায় ভারতীয় রেলকে মোটা অঙ্কের বড় জরিমানা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হাতে কনফার্ম টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেনে বসার ন্যূনতম সুযোগ না পেয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়ে সফর করতে বাধ্য হয়েছেন যাত্রীরা। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এই নজিরবিহীন গাফিলতির জেরে এবার উপভোক্তা আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা ও মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ল রেল কর্তৃপক্ষ। টিকিট থাকার পরেও যাত্রীদের আসন নিশ্চিত করতে না পারা এবং দায়িত্ব এড়ানোর মানসিকতাকে চরম পরিষেবা ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেছে উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন।
ঘটনাটি ঘটে লোকমান্য তিলক টার্মিনাস থেকে পটনাগামী এক্সপ্রেসে। বিন্ধ্যাচল থেকে আরা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া চারজন যাত্রী তাঁদের নির্দিষ্ট ‘B4’ কোচে উঠে দেখতে পান, তাঁদের বরাদ্দ বার্থগুলি অন্য কয়েকজন দখল করে রেখেছেন। অবৈধভাবে আসন দখলকারী ওই ব্যক্তিরা নিজেদের রেলের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে উঠতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা ট্রেনে কর্তব্যরত রেল কর্মীদের দ্বারস্থ হলেও কোনও সাহায্য পাননি। ফলে বাধ্য হয়েই চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে পার করতে হয় তাঁদের। পরবর্তীকালে রেল মন্ত্রক ও ‘রেল পরিষেবা’ পোর্টালে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগীরা।
রেলের দায় এড়ানোর চেষ্টা ও উপভোক্তা কমিশনের কড়া পর্যবেক্ষণ
আইনি লড়াইয়ে উত্তর মধ্য রেল এবং রেল মন্ত্রক যৌথভাবে দাবি করেছিল যে, কামরায় আসন দখল সংক্রান্ত বিষয়টি মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আওতাভুক্ত, যা সরকারি রেল পুলিশের (জিআরপি) এক্তিয়ারে পড়ে। এই ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের পরিষেবায় কোনও খামতি ছিল না বলেও তারা সওয়াল করে। তবে ভোজপুর জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন রেলের এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানায়, টিকিট কনফার্ম হওয়ার পরেও যাত্রীদের আসন বুঝিয়ে দিতে না পারা এবং পরবর্তী সময়ে অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা না নেওয়া সম্পূর্ণভাবে রেলের গাফিলতি ও উদাসীনতার প্রমাণ। এর ফলে যাত্রীরা মারাত্মক আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
আর্থিক দণ্ড ও রেল পরিষেবায় সম্ভাব্য দূরগামী প্রভাব
পরিষেবার এই চরম গাফিলতির কারণে কমিশন রেল কর্তৃপক্ষকে মূল টিকিটের মূল্য বার্ষিক ৮ শতাংশ সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, যাত্রীদের হেনস্থার ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং আইনি লড়াইয়ের খরচ হিসেবে আরও ১৫ হাজার টাকা যৌথভাবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এই অর্থ না দিলে জরিমানার ওপর ১০ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।
এই রায়ের ফলে ভারতীয় রেলের সামগ্রিক দায়বদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলি পুনরায় প্রকাশ্য চলে এল। কনফার্ম টিকিটধারী যাত্রীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় রেল কর্মীদের বা বহিরাগতদের এমন দাদাগিরি বন্ধ করতে এবং সাধারণ যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় এই রায় রেল প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও দায়বদ্ধ হতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
