কপালে টিকা লাগানোয় ছাত্রকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, খড়দহের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তুমুল উত্তেজনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে কপালে ধর্মীয় টিকা লাগিয়ে আসায় এক ছাত্রকে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের কপালে লাগানো টিকা মুছে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিক্ষোভ
সোমবার খড়দহের ওই বেসরকারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র কপালে ধর্মীয় টিকা লাগিয়ে ক্লাসে আসে। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষিকারা জোর করে তার কপাল থেকে সেই টিকা মুছিয়ে দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে টিটাগড়ের বাসিন্দা ওই ছাত্রের অভিভাবক সুরেন্দ্র প্রসাদ বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্কুল চত্বরে চড়াও হন। স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের তীব্র বিরোধিতা করে তারা প্রধানশিক্ষিকার ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিভাবক সুরেন্দ্র প্রসাদের দাবি, কপালে টিকা লাগানো তাঁদের পারিবারিক ও ধর্মীয় প্রথার অংশ, এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
স্কুল কর্তৃপক্ষের সাফাই ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
বিক্ষোভের মুখে পড়ে স্কুলের প্রিন্সিপাল বা প্রধানশিক্ষিকা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো ছাত্রের টিকা জোর করে মুছে দেওয়া হয়নি। বরং স্কুলে একটি নির্দিষ্ট পোশাক বিধি বা ‘কোড অফ কনডাক্ট’ রয়েছে, যেখানে সমস্ত ধর্মের ছাত্ররাই সমান এবং তাদের একইভাবে স্কুলে আসতে হয়। তিনি ছাত্রটিকে কেবল সেই নিয়মের কথাই বুঝিয়ে বলেছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং উত্তেজিত অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার মূলে রয়েছে স্কুলের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও পোশাক বিধির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় আচার-আচরণের সংঘাত। বেসরকারি স্কুলগুলোতে কঠোর ‘কোড অফ কনডাক্ট’ বজায় রাখার চেষ্টা করা হলেও, সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়ে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রায়শই জনমানসে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পোশাক বিধি ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। একই সাথে স্কুল পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
