কম্বলে লেগে ছিল ছাগলের লোম! আর এভাবেই ধরা পড়ল মাসুম শিশুর খুনি, চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের রাজধানী পাটনায় ১০ বছরের এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এল। পুলিশের তৎপরতায় এবং সামান্য কয়েকটি ক্লুর ভিত্তিতে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত রঞ্জিত। গত ২৩ এপ্রিল দুধ আনতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ওই শিশুটি। পরবর্তীতে বাইপাস থানা এলাকার জল্লা মহাবীর মন্দিরের পাশের একটি সরু গলিতে আবর্জনার স্তূপের মধ্য থেকে কম্বলবন্দি অবস্থায় তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
তদন্তের মোড় ঘোরাল ছাগলের লোম
পুলিশি তদন্তে সবচেয়ে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায় সেই কম্বলটি, যাতে শিশুটির দেহ জড়ানো ছিল। ফরেনসিক ও প্রাথমিক তদন্তের সময় পাটনা পুলিশ লক্ষ্য করে যে, ওই কম্বলে ছাগলের লোম লেগে রয়েছে। এই ছোট তথ্যটিই গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তোলে। পুলিশ অনুমান করে, ঘাতক আশেপাশে থাকা কোনো ব্যক্তি হতে পারে যার বাড়িতে ছাগল রয়েছে। এরপরই ওই গলির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশি চলাকালীন একটি ঘরের বাইরে ৪-৫টি ছাগল বাঁধা দেখে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে।
পলায়ন ও অপরাধের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
সন্দেহভাজন ওই ঘরটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকলেও পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ঘামসিক্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকা রঞ্জিতকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। জেরায় সে স্বীকার করে যে, অসৎ উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ভুল বুঝিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়েছিল সে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে শীল-নোড়ার পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করে রঞ্জিত। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে দিনভর মৃতদেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল সে। রাত ২টোর দিকে পুকুরে দেহটি ফেলতে গিয়ে পুলিশের টহলদারি ভ্যান দেখে ভয় পেয়ে যায় এবং মাঝরাস্তাতেই দেহটি ফেলে পালিয়ে যায়।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত কিনারা করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনাটি অপরাধ দমনে বিজ্ঞানসম্মত পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল।
এক ঝলকে
- পাটনার বাইপাস থানা এলাকায় নিখোঁজ ১০ বছরের নাবালিকাকে নৃশংসভাবে খুন।
- লাশের গায়ে থাকা কম্বলে আটকে থাকা ছাগলের লোম দেখে খুনিকে শনাক্ত করল পুলিশ।
- ঘাতক রঞ্জিতকে তার নিজের ঘর থেকে ঘামসিক্ত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
- অপরাধের প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত ঘাতক।
