কলকাতায় এক ধাক্কায় ১০ হাজার টাকা সস্তা রুপো, সপ্তাহের শুরুতেই বড় পতন সোনাতেও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনেই স্বস্তি ফিরল মধ্যবিত্ত ও বিনিয়োগকারীদের মনে। সোমবার বাজার খুলতেই কলকাতা তথা দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেল। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ফিউচার ট্রেডিং শুরু হতেই দুই মূল্যবান ধাতুর গ্রাফ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির জেরে অতীতে যে রুপোর দাম রকেটের গতিতে বেড়েছিল, তা এখন লাগাতার কমছে। জানুয়ারির সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড মূল্যের তুলনায় রুপোর দাম কেজি প্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
রেকর্ড মূল্য থেকে বিপুল পতন
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশের বাজারে রুপোর দাম প্রথমবারের মতো ৪ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে সর্বোচ্চ ৪,৫৭,৩২৮ টাকায় পৌঁছেছিল। এরপর থেকেই বাজারে দাম কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বাজার খোলার পর এমসিএক্স-এ রুপোর দাম আগের দিনের তুলনায় এক ধাক্কায় প্রতি কেজি ৬,৯১৭ টাকা কমে ২,৬৪,৯৪৯ টাকায় নেমে আসে। ফলস্বরূপ, সর্বকালের সর্বোচ্চ দর থেকে বর্তমানে রুপো প্রতি কেজিতে ১,৯২,৩৭৯ টাকা সস্তা হয়েছে।
অন্য দিকে, বাজার খোলার শুরুতে সোনার দামেও বড় পতন দেখা যায়। এমসিএক্স-এ গত শুক্রবার ৫ জুনের মেয়াদপূর্তির সোনা ১,৫৮,৫৪৭ টাকায় বন্ধ হলেও, সোমবার সকালে তা ১,০০০ টাকা কমে ১,৫৭,৫৪৭ টাকায় নেমে আসে। যদিও লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার দাম কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে দেখা গিয়েছে। জানুয়ারির সর্বোচ্চ রেকর্ড ২,০২,৯৮৪ টাকার তুলনায় ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে বর্তমানে ৪৫,৪৩৭ টাকা কমছে।
কলকাতা বাজারে আজকের দর
সোমবারে কলকাতার স্থানীয় বাজারেও সোনা ও রুপোর দাম এক লাফে অনেকটা কমেছে। কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ৭১০ টাকা কমে হয়েছে ১,৫৬,২২০ টাকা। গহনার সোনা অর্থাৎ ২২ ক্যারেট ১০ গ্রামের দাম ৬৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪৩,২০০ টাকায়। ১৮ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫৩০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,১৭,১৭০ টাকা। পাশাপাশি কলকাতায় রুপোর দাম কেজিতে এক ধাক্কায় ১০ হাজার টাকা কমে হয়েছে ২,৯০,০০০ টাকা। প্রতি গ্রাম রুপোর আজকের দর ২৯০ টাকা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি এবং দেশীয় বাজারে ফিউচার ট্রেডিংয়ের গতিপ্রকৃতির কারণে সোনা ও রুপোর দামে এই সংশোধন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আমদানি শুল্কের ধাক্কা কাটিয়ে বাজার এখন স্বাভাবিক স্তরে ফেরার চেষ্টা করছে। ধাতু দুটির এই ধারাবাহিক দরপতনের ফলে গহনা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কেনাকাটার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি, বিয়ের মরশুমের আগে এই পতন মধ্যবিত্তের বড় সাশ্রয় ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
