কলকাতায় প্রথম! ইউরোলজিক্যাল জটিলতায় রোবোটিক সার্জারির সফল প্রয়োগে নজির গড়ল ডিসান হাসপাতাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিকতম জয়যাত্রা এবার কলকাতায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। তীব্র যন্ত্রণা এবং কিডনি বিকল হওয়ার চরম ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা এক যুবকের অত্যন্ত জটিল ইউরোলজিক্যাল সমস্যার সফল সমাধান হলো রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে। কলকাতার ডিসান হাসপাতালের এই নজিরবিহীন সাফল্য পূর্ব ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল, যা ভবিষ্যতে ইউরোলজি চিকিৎসায় এক নতুন যুগের পথপ্রদর্শক হতে চলেছে।
রোগ নির্ণয় ও অন্ধকারের অবসান
বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী যুবক শ্রী হরগোপাল রায় দীর্ঘদিন ধরে পেটে এবং ডানদিকের কোমরের নিচে অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। নিজ দেশে একাধিক চিকিৎসক দেখিয়েও যন্ত্রণার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কলকাতায় ডিসান হাসপাতালে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, তাঁর ডানদিকের কিডনিতে পাথর (Right Lower Pole Kidney Stone) রয়েছে এবং সেই সঙ্গে তিনি ‘রাইট পেলভি-ইউরেটেরিক জাংশন অবস্ট্রাকশন উইথ হাইড্রোনেফ্রোসিস’ (PUJ Obstruction with Hydronephrosis)-এ আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি থেকে প্রস্রাব নালিতে যাওয়ার পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে প্রস্রাব জমছিল এবং কিডনিটি ফুলে উঠছিল। এই ব্লকেজের কারণে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর কিডনিটি চিরতরে অকেজো হয়ে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা ছিল।
রোবোটিক প্রযুক্তির ম্যাজিক ও পুনর্গঠন
এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডিসান হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. সুজয় বসাক এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম ঐতিহ্যগত অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে রোবোটিক অ্যাসিস্টেড পাইলোপ্লাস্টি (Robotic-assisted Pyeloplasty) করার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচার চলাকালীন চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘অ্যান্ডারসন-হাইনস পাইলোপ্লাস্টি’ প্রযুক্তির সাহায্যে প্রস্রাব নালির সেই অবরুদ্ধ অংশটি কেটে বাদ দেন এবং পথটি নতুন করে পুনর্গঠন করেন। পরবর্তীতে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকানোর জন্য সেখানে একটি ‘ডিজে স্টেন্ট’ বসানো হয়। এই অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির ফলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের অংশটি অনেক স্পষ্ট ও ত্রিমাত্রিক আকারে দেখার সুযোগ পান, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত ও দূরগামী প্রভাব
এই অস্ত্রোপচারের ফলে প্রথাগত ওপেন সার্জারির বড় কাটাছেঁড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার নেতিবাচক প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রোবোটিক সার্জারির অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এতে রক্তপাত নগণ্য হয় এবং রোগী অত্যন্ত দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন।
কলকাতায় প্রথম ইউরোলজিক্যাল সমস্যায় রোবোটিক প্রযুক্তির এই সফল প্রয়োগ আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর রোগীদের জন্য কলকাতার প্রতি চিকিৎসাগত ভরসা আরও দৃঢ় হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, ক্লিনিক্যাল এক্সেলেন্সের এই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে, যা চিকিৎসা খাতে নতুন উদ্ভাবনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
