কাটোয়ায় তৃণমূল নেত্রীর গলায় জুতোর মালা, দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষে চলল ডিম থেরাপি! – এবেলা

কাটোয়ায় তৃণমূল নেত্রীর গলায় জুতোর মালা, দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষে চলল ডিম থেরাপি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়ছে। এবার দুর্নীতির অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেত্রী কণিকা বাইন সরকারকে ঘিরে ধরে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে এবং ডিম ছুড়ে হেনস্তা করলেন উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। শুক্রবার রাতে কাটোয়ার একাইহাট এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দুর্নীতির অভিযোগ

দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ, একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ওই তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং তাঁকে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়া হয়। প্রতারিত গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পালটা দাবি

এই ঘটনার জেরে এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিনের অন্যায় ও দুর্নীতির কারণেই আজ সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কণিকা বাইন সরকার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পালটা দাবি, একশো দিনের কাজের টাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারদের দায়িত্ব, এখানে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। উলটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর ও তাঁর মেয়ের ওপর হামলা এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের ওপর এই ধরনের আক্রমণের ঘটনাপ্রবাহ স্থানীয় প্রশাসনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, এই জনরোষ ও পালটা অভিযোগের জেরে আগামী দিনে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *