কালীঘাটে নজিরবিহীন অসন্তোষের আবহেই কি জুনের শুরুতে ধর্নামঞ্চে ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। দলের রাজনৈতিক ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি বৈঠক বয়কট করলেন সিংহভাগ বিধায়ক। রবিবার দুপুরে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে এই মেগা বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আশি জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র কুড়ি জন। দলের প্রায় পঁচাশী শতাংশ বিধায়ক গরহাজির থাকায় শেষপর্যন্ত তড়িঘড়ি বাতিল করে দিতে হয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতা ছাড়া সিংহভাগ বিধায়কই শীর্ষ নেতৃত্বের ফোন এড়িয়ে চলেন, যা দলীয় ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর বিধায়কদের মনোভাব বুঝতে এবং দল ভাঙার খেলা রুখতেই এই জরুরি তলব ছিল। কিন্তু বিধায়কদের এই গণ-অনুপস্থিতি শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। এই অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে কর্মীদের নজর ঘোরাতে এবং সংগঠনকে চাঙ্গা করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বৈঠক বাতিলের পর দলের অন্যতম প্রধান মুখ তথা রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জুন মাসের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন।
তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের রূপরেখা
অভ্যন্তরীণ ফাটল ঢাকার চেষ্টা হিসেবেই তৃণমূল কংগ্রেস এখন রাজপথের আন্দোলনকে হাতিয়ার করছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুন সোমবার রাজ্যের প্রতিটি পুর অঞ্চল এবং পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে দল। সোনারপুর ও শ্রীরামপুরের ঘটনা এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলার প্রতিবাদে এই বুথ ও অঞ্চল স্তরের আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।
ধর্মতলায় খোদ দলনেত্রীর ধর্না
আন্দোলনের সুর আরও তীব্র করতে ২ জুন সরাসরি কলকাতার রাজপথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এক ধর্না কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। দলের ওপর রাজনৈতিক হিংসার প্রতিবাদের পাশাপাশি কলকাতার হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক জনস্বার্থবাহী ইস্যুকে সামনে রেখে এই ধর্না মঞ্চ থেকে সুর চড়াবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের ডাক আসলে দলের গভীর ফাটল আড়াল করার একটি কৌশল। যে ৬০ জন বিধায়ক কালীঘাটের বৈঠক বয়কট করলেন, তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন কীভাবে মেরামত করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
