কালীঘাটের অবারিত দ্বার এবার বন্ধ! মমতার সঙ্গে সাক্ষাতে কড়াকড়ি, বেঁধে দেওয়া হল সময় – এবেলা

কালীঘাটের অবারিত দ্বার এবার বন্ধ! মমতার সঙ্গে সাক্ষাতে কড়াকড়ি, বেঁধে দেওয়া হল সময় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একসময় ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট মানেই ছিল অবারিত দ্বার। দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বা সাংবাদিক— তৃণমূল কংগ্রেসের এই ‘অপ্রতিরোধ্য দুর্গে’ প্রায় সবারই অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে রাজনীতি, আর তার ছাপ পড়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনেও। রাজনৈতিক পালাবদল এবং দলের শীর্ষ নেতাদের দলত্যাগের পর এবার কালীঘাটের বাড়ির নিয়মেও এল বড়সড় পরিবর্তন।

সাক্ষাতের নয়া নিয়ম কী? জানা গিয়েছে, আগের মতো আর চাইলেই যখন-তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা যাবে না। সাক্ষাতের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন দিনে মাত্র একবার, বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যেই দর্শনার্থীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন। এই নিয়ম দলের নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাশাপাশি, বাড়ির আশেপাশের নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বা ক্যামেরাপার্সনদের প্রবেশেও জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।

সম্প্রতি পর্ণশ্রীর বাসিন্দা তৃষ্ণা সাহা সকালে কালীঘাটে দেখা করতে গেলে তাঁকে বিকেলে আসতে বলা হয়। বিকেলে এসেও নির্দিষ্ট সময়ে ভিড়ের কারণে তিনি কেবল কয়েক সেকেন্ডের জন্য মমতার হাত ছোঁয়ার সুযোগ পান, কথা বলার সুযোগ হয়নি।

দল পুনর্গঠনে জোর মমতার ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস বা মদন মিত্রের মতো একসময়ের ছায়াসঙ্গীরা আজ বিরোধী শিবিরে। তবে তাতে ভেঙে না পড়ে বরং সংগঠনকে নিচুতলা থেকে মজবুত করায় মন দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। বুধবারও হাওড়া, বেহালা ও গার্ডেনরিচ এলাকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

ভরসা সেই ‘সোনার খনি’ তৃণমূলের এই কঠিন সময়ে মমতার সবচেয়ে বড় ভরসা দলের তৃণমূল স্তরের পুরোনো কর্মীরা। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সভায় তাঁদের ‘সোনার খনি’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দলের কর্মীদের প্রতি তাঁর কড়া অথচ আত্মবিশ্বাসী বার্তা, “যাঁরা যেতে চান, তাঁরা যেতে পারেন। যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁরাই আমার সোনার খনি। ১৯৯৭ সালে যেমন নতুন করে শুরু করেছি, ২০২৬ সালেও নতুন করে লড়াই করার শক্তি আমার রয়েছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *