কালীঘাটের প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে সরব মমতা, কমিশন ও পর্যবেক্ষকদের তীব্র হুঁশিয়ারি

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) গৌতম দাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অত্যাচারের অভিযোগ ও ওসির সাসপেনশন
কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি গৌতম দাসের বিরুদ্ধে জনৈক মহিলার শ্লীলতাহানি এবং শিশুদের মারধর করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি বলেন, “কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি মহিলা ও শিশুদের মেরেছিলেন, তাঁকে শনিবার সাসপেন্ড করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গৌতম দাসের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, যার জেরে নির্বাচন কমিশন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
পর্যবেক্ষকদের আদালতে টানার হুমকি
ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল শাসক দল। এ দিনের বৈঠকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা ভাবছেন ৪ মে-র পর নিজেদের রাজ্যে পালিয়ে যাবেন! তাঁদের প্রত্যেককে টেনে নিয়ে আসা হবে। অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য তাঁদের আদালতে টেনে আনা হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বিশেষভাবে ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা ‘সিংঘম’ খ্যাত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
কালীঘাটের নতুন নিয়োগ ঘিরেও বিতর্ক
গৌতম দাসের পরিবর্তে কালীঘাট থানার নতুন ওসি হিসেবে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে নিয়োগ করেছে কমিশন। তবে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেও নতুন করে চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ দাবি করেছেন, চামেলি মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে এবং তিনি একজন ‘আসামি’। এই অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গণনার আগে কালীঘাট থানার দায়িত্বভার নিয়ে এই টানাপোড়েন শহর কলকাতার রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
