কিউবা থেকে আমেরিকা কাঁপাবে ইরান! ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউ ইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়তে চলেছে ওয়াশিংটনের দোরগোড়ায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান অত্যন্ত গোপনেই এমন এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল তৈরি করছে, যা সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে। এই ‘মেগা প্ল্যান’ নিয়ে মার্কিন সংসদে সরব হয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট, যা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মার্কিন সংসদে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে সতর্ক করে জানান, ইরানকে রুখতে কেন সামরিক পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তেহরান এমন এক প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে যার মাধ্যমে খুব দ্রুত তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমেরিকার মাটি ছুঁতে পারবে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে এবং এই বিপদ এড়াতে যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
গোয়েন্দা রিপোর্ট বনাম হোয়াইট হাউস
ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৫ সালের একটি অতি গোপনীয় রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হাতে বর্তমানে যে প্রযুক্তি রয়েছে তাতে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) তৈরি করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ, গোয়েন্দাদের মতে বিপদ এখনও অন্তত এক দশক দূরে।
তবে গোয়েন্দা রিপোর্টকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আন্না কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা অমূলক নয়। তিনি বলেন, যে দেশ প্রতিনিয়ত ‘আমেরিকার ধ্বংস’ কামনা করে স্লোগান দেয়, তাদের হাতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থাকা মানেই তা গোটা বিশ্বের জন্য রেড অ্যালার্ট।
যুদ্ধের মেঘ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। একদিকে যুদ্ধের দামামা বাজছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে পর্দার আড়ালে চলছে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক বয়ান সেই চেষ্টায় জল ঢেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের এই তথাকথিত ‘মেগা প্ল্যান’ যদি সত্যি হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে দেবে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান তাদের এই মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কী অবস্থান নেয়।

