কিম জং উন আক্রান্ত হলেই শুরু হবে পরমাণু যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার নতুন সংবিধানে কাঁপছে বিশ্ব

কিম জং উন আক্রান্ত হলেই শুরু হবে পরমাণু যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার নতুন সংবিধানে কাঁপছে বিশ্ব

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় চরম পদক্ষেপ নিল উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে দেশটির সংবিধানে এক চাঞ্চল্যকর সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে হত্যার চেষ্টা করা হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে দেশটির সেনাবাহিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুপক্ষের ওপর পারমাণবিক হামলা শুরু করবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধ্বংসী কৌশল

এতদিন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এককভাবে কিম জং উনের হাতে থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে কমান্ড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত ধারায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বিদেশি শক্তি যদি কিমকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় কিংবা দেশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে কোনো প্রকার উচ্চতর নির্দেশের অপেক্ষা না করেই পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করা হবে। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটেই কিম নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই ‘ডেড হ্যান্ড’ মেকানিজম বা স্বয়ংক্রিয় পাল্টা আঘাতের কৌশল বেছে নিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সংকেত

উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং উনের এই বিধ্বংসী আইন বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিল। কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যদি কমান্ড সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটে, তবে সেটিও অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক মহাপ্রলয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার জবাব দিতেই পিয়ংইয়ং এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • কিম জং উনের জীবন বিপন্ন হলে উত্তর কোরিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু হামলা চালাবে।
  • দেশের সংবিধানে সংশোধনী এনে এই নতুন ‘অটোমেটিক অ্যাটাক’ নিয়ম চালু করা হয়েছে।
  • ইরানের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত।
  • এই আইনের ফলে কোরিয়া উপদ্বীপে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *