লেটেস্ট নিউজ

কুকি স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে মেইতেই যুবকের করুণ পরিণতি, মণিপুরে ফের রক্তক্ষরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মণিপুরে জাতিগত দাঙ্গার ভয়াবহতা ফের একবার প্রকাশ্যে এল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কুকি অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুরে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নৃশংসভাবে প্রাণ হারালেন ৩৮ বছর বয়সি মেইতেই যুবক এম ঋষিকান্ত। অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে অপহরণ করার পর রাতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটি।

অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ঋষিকান্ত আদতে কাকচিং জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় নেপালের একটি সংস্থার কর্মী। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী কুকি সম্প্রদায়ের হওয়ায়, অশান্তির আবহেও স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি চূড়াচাঁদপুরে গিয়েছিলেন। এমনকি, সেখানে যাওয়ার আগে তিনি কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (KNO) ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি তাঁর জীবন। বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ খবর আসে, অপহরণের পর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওর শিহরণ

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে (যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাস্তায় বসে দুই সশস্ত্র ব্যক্তির সামনে হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা করছেন ওই যুবক। কিন্তু আততায়ীদের মনে তা বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি। ভিডিওর শেষ অংশে গুলির শব্দে স্তব্ধ হয়ে যায় ঋষিকান্তের কণ্ঠ। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে, এই নৃশংস খুনের নেপথ্যে ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’ জড়িত থাকতে পারে।

জ্বলছে মণিপুর

গত কয়েক বছর ধরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তপ্ত মণিপুর। ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, ঝরেছে অগুনতি প্রাণ। ঋষিকান্তের এই হত্যাকাণ্ড দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই গভীর ক্ষতকে আরও চওড়া করল। ব্যক্তিগত জীবনে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক যে সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি, এই ঘটনা তারই এক চরম উদাহরণ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *