‘কুফা’ অপবাদে হাইওয়েতে বিসর্জন! ১ লাখে কেনা আড়াই বছরের শিশুকে মাঝরাস্তায় ফেলল দম্পতি

মধ্যপ্রদেশের গুনার এক ব্যবসায়ী দম্পতি তাদের আড়াই বছর বয়সী পালিত কন্যা সন্তানকে মহাসড়কে ফেলে দিয়ে অমানবিকতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত ১৮ এপ্রিল শিউপুর জেলার ৫Uy-নম্বর জাতীয় সড়কে শিশুটিকে একা কাঁদতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোপাল থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি জানায়, শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার পর থেকেই তাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিল এবং তারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। শিশুটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ বা ‘দুর্ভাগ্যের’ কারণ মনে করেই তারা তাকে নির্জন স্থানে ফেলে আসে।
উন্মোচিত হলো পাচারকারী চক্র
তদন্তে নেমে পুলিশ এই ঘটনার পেছনে একটি বিশাল শিশু পাচারকারী চক্রের হদিস পেয়েছে। ধৃত দম্পতি স্বীকার করেছে যে, তারা ইন্দোরের একটি অবৈধ চক্রের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে ক্রয় করেছিল। এই চক্রটি মূলত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের সংগ্রহ করে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। এই মামলার সূত্র ধরে পুলিশ পাচারকারী চক্রের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
নির্যাতন ও আইনি প্রভাব
উদ্ধার হওয়া শিশুটি বর্তমানে সরকারি শিশু যত্ন কেন্দ্রে নিরাপদ রয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই দম্পতি শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত। তাদের বাড়িতে কাজ করা একজন পরিচারিকা জানান, শিশুটিকে নিয়মিত মারধর করা হতো। এই ঘটনা ভারতের ক্রমবর্ধমান অবৈধ দত্তক এবং শিশু পাচারের ভয়াবহ চিত্রটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশাসন বর্তমানে এই পাচারকারী চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে আড়াই বছরের শিশুকে মহাসড়কে ফেলে দেয় এক ব্যবসায়ী দম্পতি।
- তদন্তে বেরিয়ে আসে শিশুটিকে এক লাখ টাকায় একটি অবৈধ পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।
- পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে এবং শিশুটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
- এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রদেশে একটি বড়সড় শিশু পাচারকারী র্যাকেটের পর্দা ফাঁস হয়েছে।
