কুমারীত্বের পরীক্ষায় পাসের দাবি ও পণের বলি, শ্বাশুড়ির অত্যাচারে আদালতের দ্বারস্থ গৃহবধূ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ইন্দোরে একবিংশ শতাব্দীতেও একবিংশ শতাব্দীর অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারের বলি হলেন এক গৃহবধূ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভোপালের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওই মহিলা। বিয়ের কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই তাঁর চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করতে শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। ফুলশয্যার রাতে বিছানায় রক্তের দাগ না মেলায় পুত্রবধূর সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ শাশুড়ি। এমনকি প্রতিবেশীদের ডেকে এনে বিছানার চাদর দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে চূড়ান্ত অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়।
মানসিক নির্যাতন ও পণের দাবি
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। কুমারীত্বের অজুহাতে লাঞ্ছনা করার পাশাপাশি ওই গৃহবধূর পরিবারের কাছে দুই লক্ষ টাকা পণ দাবি করে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অভিযোগ, গর্ভাবস্থাতেও তাঁর ওপর অত্যাচার কমানো হয়নি। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর সেই নির্যাতনের মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যার ফলে ওই মহিলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
আইনের আশ্রয় ও সামাজিক প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে বিচার পেতে আদালতের কড়া নেড়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ইন্দোরের জেলা আদালতে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনা আধুনিক সমাজে নারীর মর্যাদা এবং বৈজ্ঞানিক চেতনার অভাবকে পুনরায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। কুসংস্কার ও পণের দাবিতে গৃহবধূকে আত্মহত্যার প্ররোচনা বা দীর্ঘমেয়াদী ট্রমার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই প্রবণতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ফুলশয্যার রাতে বিছানায় রক্তের দাগ না পাওয়ায় পুত্রবধূর সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে হেনস্থা করেন শাশুড়ি।
- সতীত্ব নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ওই গৃহবধূর কাছে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
- কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর গৃহবধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতনের মাত্রা তীব্রতর হয়।
- নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত ইন্দোর জেলা আদালতে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা।
