কুরবানি নিয়ে সমঝোতা নয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার জবাবে হুঙ্কার হুমায়ুন কবিরের – এবেলা

কুরবানি নিয়ে সমঝোতা নয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার জবাবে হুঙ্কার হুমায়ুন কবিরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশু জবাই নিয়ে রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া নতুন গাইডলাইন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সরকারের এই নির্দেশিকাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কুরবানির ধর্মীয় আচারের সঙ্গে কোনও ধরনের সমঝোতা করা হবে না এবং এই বিষয়ে কারও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই।

সরকারের কড়া গাইডলাইন ও শাস্তির বিধান

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ পশু জবাই করতে পারবেন না। পাশাপাশি গরুর বয়স ন্যূনতম ১৪ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত জবাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য।

অধিকার রক্ষার পক্ষে সওয়াল বিধায়কের

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কুরবানি মুসলমানদের একটি অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব এবং এটি তাদের মৌলিক অধিকার। বিশ্বের সমস্ত মুসলমান এই ত্যাগের উৎসব পালন করবেনই। সরকারি নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, কুরবানির মতো পবিত্র বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার এক্তিয়ার কারও নেই এবং নির্দিষ্ট নিয়ম বা বাধা থাকা সত্ত্বেও পশু জবাই হবেই।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ধর্মীয় ও প্রশাসনিক বিতর্কের পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে দেওয়া সেই বক্তব্যকে ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন হুমায়ুন কবির। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বুলডোজার নীতিকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের এই নতুন গাইডলাইন এবং তার বিপরীতে বিধায়কের এই কড়া অবস্থান আগামী দিনে উৎসবের মরশুমে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে সরকারি নিয়ম কার্যকরের চাপ এবং অন্যদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষার লড়াইয়ের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *