কৃষ্ণনগরে রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত শিশুকন্যাকে আগলে রাখল সারমেয়রা

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল হোটেলের পাশের অন্ধকার ঝোপ থেকে এক পরিত্যক্ত শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের লোকজনই রাতের অন্ধকারে শিশুটিকে ফেলে রেখে চলে যায়। তবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ওই একরত্তিকে সারা রাত পাহারা দিয়ে বিপদ থেকে রক্ষা করল একদল রাস্তার কুকুর। অবলা প্রাণীগুলোর এমন মানবিক আচরণে রীতিমতো হতবাক স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে নবদ্বীপ থেকে যাত্রী নামিয়ে ফিরছিলেন এক টোটোচালক। রাত ১০টা নাগাদ রাস্তার ধারে টোটো থামাতেই তিনি বেশ কিছু কুকুরের অস্বাভাবিক চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনতে পান। উৎসুক হয়ে এগিয়ে যেতেই তিনি দেখেন, কয়েকটি কুকুর একটি ঝোপের সামনে অদ্ভুত আচরণ করছে এবং বারবার ভিতরে যাতায়াত করছে। কাছে যেতেই শিশুর কান্নার শব্দ শুনে ঝোপের ভিতর প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে চারটি কুকুরের ঘেরাটোপে পড়ে থাকতে দেখেন ওই শিশুকন্যাকে। দৃশ্যত, কুকুরগুলো শিশুটিকে বড় কোনো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করছিল।
তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই চালক এবং পরে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় খবর দেন। উদ্ধারকারীর পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে শিশুটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁদের দাবি, কুকুরগুলো আগলে না রাখলে হয়তো কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত। শিশুটিকে উদ্ধারের পর আপাতত চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে একটি সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে নারী ও শিশু সুরক্ষা দফতরের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। কে বা কারা এই অমানবিক কাজ করল, তা জানতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একটি ফুলের মতো শিশুকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটির আসল পরিচয় জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
