কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার স্বস্তি, সিবিআইয়ের সাজানো গল্প নিয়ে কড়া তোপ আদালতের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আবগারি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়া। শুক্রবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত তাঁদেরসহ ২৩ জন অভিযুক্তকে মামলা থেকে ‘ডিসচার্জ’ বা নিষ্কৃতি দিয়েছে। আদালতের সাফ কথা, তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই।
তদন্ত নিয়ে সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা
৫৪৯ পাতার দীর্ঘ রায়ে আদালত সিবিআইয়ের তদন্ত পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করেছে। বিচারক জানিয়েছেন, এই পুরো মামলাটি আদতে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কাল্পনিক গল্প মাত্র। প্রমাণের অভাব ঢাকতে বারবার বয়ান বদলানো এবং জোর করে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা হয়েছে বলে আদালত মন্তব্য করেছে। এমনকি তদন্তকারী সংস্থা যেভাবে ‘সাউথ গ্রুপ’ নাম ব্যবহার করেছে, তা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।
কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে মেলেনি প্রমাণ
সিবিআই মনীশ সিসোদিয়াকে এই কথিত কেলেঙ্কারির মূল কারিগর হিসেবে দাবি করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, সিসোদিয়া কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিলেন এমন একটিও নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ পেশ করতে পারেনি সিবিআই। অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। কেবল অন্যের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।
নতুন আবগারি নীতি ছিল আইনসম্মত
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ২০২১ সালের আবগারি নীতিটি যথাযথ আলোচনার মাধ্যমেই আনা হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন উপ-রাজ্যপালের পরামর্শও এতে যুক্ত করা হয়েছিল। তাই একে ষড়যন্ত্র বলা চলে না। সরকারি তহবিল তছরুপের যে দাবি তোলা হয়েছিল, তার কোনো আইনি ভিত্তি খুঁজে পায়নি আদালত।
তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
আবগারি দপ্তরের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার কুলদীপ সিংকে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে মনে করছে আদালত। এই কারণে যে তদন্তকারী অফিসার তাঁকে অভিযুক্ত করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ভবিষ্যৎ কী?
এই রায়ের ফলে ইডি-র দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কারণ সিবিআইয়ের এই মামলাটিই ছিল ইডি-র মামলার মূল ভিত্তি। যদিও সিবিআই সূত্রের খবর, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে।

