কেন সমুদ্রের গভীরে ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা ঢালছে ভারত? জানুন দেশের এই মেগা প্ল্যান! – এবেলা

কেন সমুদ্রের গভীরে ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা ঢালছে ভারত? জানুন দেশের এই মেগা প্ল্যান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিদেশি অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের ওপর থেকে দেশের নির্ভরতা কমাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। ভারতীয় পুরাণ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কেন্দ্র শুরু করতে চলেছে মেগা প্রকল্প—‘সমুদ্র মন্থন’

সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার খুঁজে বের করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আয়োজিত এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের জন্য সরকার রেকর্ড ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

কেন এই ‘সমুদ্র মন্থন’?

বর্তমানে ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৮ থেকে ৮৯ শতাংশ এবং প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলেই ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে।

ভারতের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রের গভীরে প্রচুর খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা থাকলেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে এতদিন সেই এলাকাগুলি অনাবিষ্কৃতই ছিল। এখন সরকার নিজেই প্রাথমিক অনুসন্ধানের বড় খরচ বহন করবে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়।

কীভাবে চলবে কার্যক্রম?

  • উন্নত প্রযুক্তি: সিসমিক সার্ভে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি করা হবে।
  • পরীক্ষামূলক খনন: সম্ভাব্য গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রের অংশগুলিতে ড্রিলিং ও অনুসন্ধান চালানো হবে।
  • পরিকাঠামো নির্মাণ: অফশোর গ্যাস পরিবহণ ও উত্তোলনের জন্য তৈরি হবে সমন্বিত পরিকাঠামো।
  • দক্ষ জনবল: প্রকল্প চালনার জন্য গড়ে তোলা হবে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম।

দেশের কী লাভ হবে?

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে ভারতের খনিজ ভাণ্ডারে ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি তেল ও গ্যাস (Oil Equivalent) যুক্ত হতে পারে। যদিও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সফল অনুসন্ধান দেশের আমদানি খরচ বহুগুণ কমাবে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারতকে অনেকটাই আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *