কেরলের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ! আবার বড় আইনি জটিলতায় ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র দ্বিতীয় ভাগ – এবেলা

কেরলের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ! আবার বড় আইনি জটিলতায় ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র দ্বিতীয় ভাগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নানা বাধা পেরিয়ে মুক্তি পেয়েছিল বহু বিতর্কিত ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চার মাস পর ফের নতুন করে বড়সড় আইনি জটিলতায় পড়েছে সিনেমাটি। ছবি থেকে ‘কেরালা’ শব্দটি অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে কেরল হাই কোর্ট ছবির প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন বা সেন্সর বোর্ডের দেওয়া ছাড়পত্রকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

আইনি বিরোধের কারণ ও মূল অভিযোগ

আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই সিনেমার বিষয়বস্তু কেরল রাজ্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং সেখানকার দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। আবেদনকারী প্রযোজকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬, ১৯৭ এবং ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু করার দাবি তুলেছেন। এই ধারাগুলোর আওতায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া, জাতীয় সংহতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, গত ১ মে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড’কেও এই মামলায় যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অনলাইনে প্রচারিত ছবির কিছু ক্লিপ কেরলবাসী ও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়াতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

আদালতের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে কেরালা হাই কোর্টের বিচারপতি পি. ভি. কুনহিকৃষ্ণন এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছবিটি ইতিমধ্যে প্রেক্ষাগৃহে বহু মানুষ দেখে ফেলায় এতদিন পর এই মামলার যৌক্তিকতা কোথায়, তা জানতে চান তিনি। এর জবাবে আবেদনকারীর আইনজীবী চেলসন চেম্বারাথি যুক্তি দেন, ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি নিয়মিত প্রদর্শিত হওয়ার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজ ও ইন্টারনেটে এখনও চলমান। অন্যদিকে, সেন্সর বোর্ড (সিবিএফসি) মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করার দাবি জানালেও আদালত চূড়ান্ত শুনানি পর্যন্ত এই বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। এই আইনি লড়াইয়ের রায়ের ওপর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটির ভবিষ্যৎ সম্প্রচার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বিতর্কিত কনটেন্ট প্রদর্শনের আইনি কড়াকড়ি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *