কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’ দেব-জুন-শিউলি! রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বেসুরো’ বা বিদ্রোহী শিবিরের তিন হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি। মঙ্গলবার বলাকা মঞ্চে আয়োজিত এই বৈঠকে ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব), মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এবং কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার উপস্থিতি স্বভাবতই ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে পৌঁছানোর পরই সেখানে উপস্থিত হন সাংসদ দেব।
প্রশাসনিক সমন্বয়ে নয়া নজির
পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম— মূলত এই তিন জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমাশাসক, বিডিও থেকে শুরু করে থানার আইসি ও ওসিরাও। সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন, জনমুখী পরিষেবা প্রদান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করাই ছিল এই প্রশাসনিক কর্মসূচির মূল কারণ। তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো, শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের প্রশাসনিক বৈঠকে শামিল করার এই পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের বৈঠকে ব্রাত্য রাখা হতো, যা তাদের নির্বাচিত করা সাধারণ মানুষের প্রতি বঞ্চনার শামিল। বর্তমান সরকারের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট তিন জেলার সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে, তেমনই অন্যদিকে প্রশাসন পরিচালনায় এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দেবে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলেও জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে।
