ক্যানসার মুক্ত সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বাংলা, টিকাকরণ কর্মসূচির ঢাকে কাঠি দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং ক্যানসারের মতো মারণ রোগ প্রতিরোধে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ, শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর হাসপাতালে উপস্থিত থেকে এই মেগা কর্মসূচির শুভ সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক চিকিৎসা পরিকাঠামোকে আরও মজবুত ও জনমুখী করতে এদিন একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহায়তায় শুরু হওয়া এই টিকাকরণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রাজ্যের ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত রাখা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন কর্মসূচির সূচনা পর্বে প্রতীকী হিসেবে প্রথম দুই কিশোরীর হাতে টিকাকরণের শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সমগ্র রাজ্যে মোট ৭ লক্ষের বেশি কিশোরীকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রথম দফায় কেন্দ্র থেকে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ প্রতিষেধক পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রেফার রুখতে কড়া বার্তা
টিকাকরণের পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সুলভ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে রোগী ফিরে যাওয়ার সমস্যা মেটাতে এদিন এসএসকেএম হাসপাতাল, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল এবং পুলিশ হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১০০টি নতুন বেডের উদ্বোধন করা হয়।
একই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ব্যাধি ‘রেফার’ এবং ‘দালাল রাজ’ নির্মূল করতে রাজ্য সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা হাসপাতালগুলোর উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে এবং অপ্রয়োজনীয় রেফার বন্ধ করতে লাইভ মনিটরিং ও ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করার ঘোষণা করা হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, নারীদের মধ্যে সার্ভাইকাল ক্যানসারের প্রকোপ ক্রমশ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে প্রতিষেধক না পাওয়া। কিশোরী বয়সেই এই টিকা প্রদান করার ফলে আগামী দিনে রাজ্যে নারীদের মধ্যে এই ক্যানসারের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, জেলা হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি এবং বেড বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের রোগীদের কলকাতায় আসার প্রবণতা কমাবে, যা পরোক্ষভাবে কলকাতার বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর উপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
