ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ড: সোমবার শেকেপিয়র সরণি থানায় তলব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এবং উত্তেজনার তদন্তে এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করল কলকাতা পুলিশ। রবিবার সকালে শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিকেরা সমন নিয়ে সরাসরি হাজির হন তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী সোমবার তাঁকে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে যে গোলমাল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তারই তদন্ত এগিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল। গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গেলেও সেই সময় নোটিস গ্রহণের মতো কেউ উপস্থিত না থাকায় তাঁদের ফিরে আসতে হয়।
ওই সময় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন অভিষেক। শনিবার তিনি কলকাতায় ফেরার পর, রবিবার সকালেই তদন্তকারীরা আবার তাঁর বাসভবনে যান। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই সমনে সরাসরি থানায় উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল ক্যামাক স্ট্রিটে?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অগস্ট। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর রয়েছে এমন একটি ভবনের ছাদে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক খচিত একটি বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, বিলবোর্ড খোলার কাজ চলাকালীন কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেকের অনুগামীদের তীব্র বচসা বাধে। সেই কথা কাটাকাটি থেকেই হাতাহাতি ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পরবর্তীতে অবশ্য ছাদ থেকে ওই বিতর্কিত বিলবোর্ডটি খুলে ফেলা হয়।
ঘটনার পর বিলবোর্ডের বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিলবোর্ডটি বসানো হয়েছিল এবং এর অবস্থান নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনার জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগেও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার নতুন করে তাঁকে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
