ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম স্বাধীনতা দিবস, চার দশকের চেনা ফ্রেমের বাইরে অদৃশ্যে মমতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম স্বাধীনতা দিবস, অথচ কোথাও দেখা মিলল না রাজ্য রাজনীতির ‘দীঘল’ ব্যক্তিত্ব, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যুব কংগ্রেসের দিনগুলো থেকে শুরু করে গত চার দশক ধরে প্রাক্-স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন কার্যত একটি নির্ধারিত রুটিন হয়ে উঠেছিল তাঁর কাছে। কিন্তু এ বার রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক— কোনও কর্মসূচিতেই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী। শনিবার সকালে কেবল সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (টুইটার) একটি পোস্ট করেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।
অতীতে যুব কংগ্রেসের দিনগুলোতে ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে হাজরা মোড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতি বছর বেহালার ম্যান্টনেও হাজির হতেন। এমনকি ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পরও বেহালার সেই নির্দিষ্ট স্থান কিংবা আরজি কর কাণ্ডের আবহে এবং কোভিডের কঠিন পরিস্থিতিতেও এই নিয়ম ভাঙেননি তিনি। প্রতি বছর ১৫ অগস্ট সকালে রেড রোডের জমকালো কুচকাওয়াজ এবং বিকেলে রাজভবনের অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে যোগ দেওয়াই ছিল তাঁর অভ্যাস।
তবে এ বছর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। রেড রোডে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সেখানে মমতার দেখা মেলেনি কোথাও। কালীঘাটে তাঁর বাড়ির উঠোনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। এ ছাড়া তপসিয়ায় তৃণমূলের পুরনো কার্যালয়ে দোলা সেন, কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়েরা পতাকা তুললেও উপস্থিত ছিলেন না মমতা স্বয়ং।
কেন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখলেন? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই দলের অন্দরমহলেও। বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি, সে বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য নেই।
এদিকে মমতার এই অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান কটাক্ষের সুরে বলেন, “স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন অন্তরের অনুভূতি ও উৎসবের মতো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন দূরে রইলেন, তা কেবল তিনিই বলতে পারবেন।”
অন্যান্য বার স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ দেখা যেত, এ বার তাও ছিল স্তিমিত। উল্টোদিকে বিজেপি ও বামপন্থীদের তরফে নানা জায়গায় এই দিনটি পালন করা হয়; আলিমুদ্দিনে সিপিএম রাজ্য দফতরে পতাকা তোলেন বিমান বসু ও মহম্মদ সেলিম। সব মিলিয়ে, রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের মূল স্রোত থেকে পুরোপুরি আড়ালে রয়ে গেলেন ক্ষমতাচ্যুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
