ক্ষমতার অলিন্দেও মাটির টান, ছেলে বিধায়ক হলেও মুদি দোকানই ভরসা বাবার – এবেলা

ক্ষমতার অলিন্দেও মাটির টান, ছেলে বিধায়ক হলেও মুদি দোকানই ভরসা বাবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে বাংলা। বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার শাসকদলকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপির কৃষ্ণকান্ত সাহা। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও, সাঁইথিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়কের পরিবারে ক্ষমতার কোনো অহংকার বা জাঁকজমক প্রবেশ করতে পারেনি। ছেলে বিধায়ক হওয়ার পরেও বীরভূমের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের পাশে নিজের পুরনো মুদি, চা ও তেলেভাজার দোকানটি একইভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর বাবা আনন্দমোহন সাহা। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই সাধারণ ব্যবসাই এখনও তাঁদের উপার্জনের মূল ভিত্তি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার স্পর্শে যেখানে বহু মানুষের জীবনযাত্রা রাতারাতি বদলে যায়, সেখানে এই পিতা-পুত্রের অনাড়ম্বর জীবনযাপন এক বেনজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

জনসেবার আদর্শ এবং সততার নজির

সাধারণত জনপ্রতিনিধিদের পরিবারে ক্ষমতার প্রভাব দেখা গেলেও, আনন্দমোহনবাবু পরিশ্রমের জীবনকেই বেছে নিয়েছেন। তাঁর মতে, ছেলে কৃষ্ণকান্ত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, সে এখন সাঁইথিয়ার সমস্ত সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি। দীর্ঘ ১২-১৪ বছর ধরে ঘর ছেড়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে ছেলের করা কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই রাজনৈতিক সাফল্য এসেছে বলে তিনি মনে করেন। নিজের পেশা আঁকড়ে ধরে থেকে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, জনসেবা করার অর্থ পরিবারের বিলাসবহুল জীবন নিশ্চিত করা নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহাও তাঁর বাবার মতোই অত্যন্ত বিনয়ী এবং মাটির মানুষ, যিনি আপদে-বিপদে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।

রাজনীতিতে সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব

এই ঘটনার একটি গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। বর্তমান সময়ে যখন রাজনীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে, তখন এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এই পিতা-পুত্র জুটির সততা এবং ঐতিহ্যের প্রতি নিষ্ঠা আগামী দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীদের জন্যও একটি বড় বার্তা। ক্ষমতার অলিন্দে থেকেও কীভাবে শিকড়কে ভুলে না গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা যায়, এই ঘটনা তারই এক অন্যতম উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *