ক্ষুব্ধ জনতার ‘ডিম থেরাপি’ থেকে বাঁচতে হেলমেট পরছেন নেতারা, রাজ্যবাসীকে সংযত হওয়ার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দিকে দিকে আছড়ে পড়ছে জনবিস্ফোরণ। গত দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এবার সরাসরি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নিশানা করতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। ছোট-বড় যেকোনো স্তরের নেতার দেখা মিললেই ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ মেতে উঠছে ‘ডিম থেরাপিতে’। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডিমের আঘাত থেকে বাঁচতে অনেক নেতাকে মাথায় হেলমেট পরে ঘুরতে হচ্ছে, আবার কাউকে পালাতে হচ্ছে পুলিশের জালি গাড়িতে চড়ে। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের উদ্দেশে কড়া ও সংযমের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার নির্দেশ
নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। অন্যায়ের বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তাই যৌথভাবে দলবদ্ধ হয়ে বা জোট বেঁধে কারও বাড়ি চড়াও হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দুর্নীতি দমনে রাজ্য প্রশাসন যে অত্যন্ত তৎপর, তা প্রমাণ করতে তিনি একজন প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মুখ্যমন্ত্রী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে ইতিমধ্যে সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) নতুন টিম গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই যেভাবে একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন, তাতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় বেরিয়ে আসছে। তবে জনতা যদি এভাবে নিজেরা বিচার করতে শুরু করে, তবে রাজ্যের সামগ্রিক শান্তি ও আইনি কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। মূলত সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী কঠোর বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ও রাজ্যের শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
