খামে টাকা নিয়ে প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ এবং ভাঙড়ে অভিষেকের কড়া আক্রমণ

ভাঙড়ের রাজনৈতিক জমি থেকে সরাসরি আইএসএফ এবং বাম জোটকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে আইএসএফ ও সিপিএম—উভয় দলই কেন প্রার্থী দিল, সেই প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আইএসএফ-এর নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশেষ আর্থিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এই পদক্ষেপ মূলত বিরোধী ভোট ভাগ করে বিজেপিকে পরোক্ষ সুবিধা দেওয়ার একটি পরিকল্পিত কৌশল।
নিরাপত্তা বিতর্ক ও বিজেপির বি-টিম কটাক্ষ বক্তব্যে নওশাদ সিদ্দিকির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বা সিআরপিএফ সুরক্ষা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শোনা যায়। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনে থাকা বাহিনী কেন একজন বিরোধী বিধায়ককে সুরক্ষা দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য পুলিশি নিরাপত্তার সাথে তুলনা টেনে তিনি আইএসএফ-কে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে অভিহিত করেন। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক অটুট রাখতে তিনি সাধারণ মানুষকে এই ‘ধ্বংসের রাজনীতি’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
ভোটের সমীকরণ ও প্রভাব এই রাজনৈতিক বাদানুবাদের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলগুলোতে জনমত নিজেদের পক্ষে আনা। অভিষেক দাবি করেছেন, প্রথম দফার ভোটেই শাসক দল জয়ের লক্ষ্যে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। বসিরহাটের শূন্য সংসদীয় পদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগকেও সামনে এনেছেন। এই আক্রমণের ফলে আগামী দফার নির্বাচনগুলোতে বিশেষ করে ভাঙড় ও নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মেরুকরণের রাজনীতি আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- নন্দীগ্রামে আইএসএফ ও সিপিএম-এর আলাদা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আইএসএফ-এর নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ।
- নওশাদ সিদ্দিকির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইএসএফ-কে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ।
- ভোট ভাগাভাগি রুখে বিজেপিকে পরাস্ত করার জন্য ভাঙড়ের মানুষের কাছে আবেদন।
