খামেনির মৃত্যু আর ট্রাম্পের হুঙ্কার: ইরানে কি এবার শাসকের পতন? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা কট্টর আমেরিকা-বিরোধী এই নেতার প্রয়াণ কি তবে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতি টানতে চলেছে?
মূল ঘটনাপ্রবাহ:
- ট্রাম্পের ঘোষণা: ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানিদের সামনে এখন নিজেদের দেশ ফিরে পাওয়ার শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
- রেজা পাহলভির বার্তা: ইরানের প্রাক্তন শাহের ছেলে রেজা পাহলভিও খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দাবি করেছেন, এই শাসনব্যবস্থা দ্রুত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
- ইরাক যুদ্ধের ছায়া: ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ২০০৩ সালে জর্জ বুশের ইরাক অভিযানের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। যদিও ট্রাম্প আগে বুশের নীতিকে ভুল বলতেন, এখন তিনিই ইরানে ক্ষমতা বদলের ডাক দিচ্ছেন।
অভ্যন্তরীণ সংকট:
জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে ইরান আগে থেকেই উত্তাল ছিল। কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুতে খামেনি প্রশাসন ব্যাকফুটে ছিল। এই ডামাডোলের মধ্যেই খামেনির মৃত্যু এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সমালোচনা ও প্রশ্ন:
ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে দাবি করলেও, তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘বিদেশি যুদ্ধ’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন খোদ তাঁর অনেক প্রাক্তন সমর্থক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের কোনো স্পষ্ট ব্লু-প্রিন্ট ছাড়াই ট্রাম্প এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে পা বাড়ালেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

