লেটেস্ট নিউজ

খামেনেই হত্যাকাণ্ডে ফুঁসছে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কি তবে মহাপ্রলয়ের সংকেত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের অবসান। মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত বিশ্ব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে পরিচালিত এই ভয়াবহ হামলায় খামেনেইর পরিবারের সদস্যসহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। খামেনেইর মৃত্যুর খবর প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেও পরে ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক ইরানের ইতিহাসে রুহুল্লাহ খোমেনির পর খামেনেই ছিলেন দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরম শক্তিশালী নেতা।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান: লক্ষ্য এবার মার্কিন ঘাঁটি

খামেনেইর মৃত্যুর পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর বদলা নিতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের ওপর সরাসরি হামলা চালাবে। পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কোনো পদক্ষেপ নিলে আমেরিকা আরও ভয়াবহ আঘাত হানবে। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিয়া সংস্কৃতিতে ‘শাহাদাত’ বা আত্মবলিদানের চেতনা অত্যন্ত প্রবল। খামেনেইর মৃত্যুকে এখন ‘কারবালার ত্যাগের’ সঙ্গে তুলনা করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে তেহরান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আঞ্চলিক যুদ্ধের দোরগোড়ায় মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক শুভদা চৌধুরীর মতে, ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। তারা পারস্য উপসাগরে মার্কিন তেল কো ম্পা নি যেমন শেভরন বা এক্সন মবিলের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ১৯টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা এখন সরাসরি ইরানের নিশানায়। অন্যদিকে, সৌদি আরবের দ্বিমুখী নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশ্যে শান্তি বজায় রাখার কথা বললেও নেপথ্যে রিয়াদ ইরানকে দুর্বল করার জন্য আমেরিকাকে প্ররোচনা দিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর ফলে শিয়া-সুন্নি মেরুকরণ নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আলোচনার পথ কি চিরতরে বন্ধ?

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের বিশেষজ্ঞ ফজলুর রহমান সিদ্দিকী মনে করেন, খামেনেইকে হত্যা করে আমেরিকা ও ইসরায়েল আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের কাছে এখন হারানোর কিছু নেই। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং গাজার হামাস—যাদের ইরান ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance) বলে থাকে, তারা এখন নতুন উদ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠবে। খামেনেইর মৃত্যু ইরানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার বদলে অভ্যন্তরীণভাবে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পরবর্তী উত্তরসূরি কে?

খামেনেইর পর ইরানের শাসনব্যবস্থা কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইরানি শাসনতন্ত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খামেনেইর স্থলাভিষিক্ত হবেন এমন কেউ, যিনি খামেনেইর মতোই কট্টরপন্থী এবং পশ্চিমা বিরোধী আদর্শে বিশ্বাসী। আমেরিকার ‘শাসন পরিবর্তনের’ স্বপ্ন আপাতত সুদূরপরাহত বলেই মনে হচ্ছে, কারণ এই হামলা ইরানিদের মধ্যে চরম মার্কিন-বিদ্বেষ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *