খালি পায়ে হাঁটার ম্যাজিক: জুতো ছাড়াই মিলবে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা ঘরের ভেতরে হোক বা বাইরে, সবসময়ই জুতো বা চটি পরে থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, জুতো ছাড়া খালি পায়ে হাঁটার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের এক অনন্য চাবিকাঠি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হলেও, বর্তমান বিজ্ঞান এর গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করছে। জেনে নিন খালি পায়ে হাঁটার অবিশ্বাস্য কিছু স্বাস্থ্যগুণ:
গভীর ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য খালি পায়ে হাঁটা ওষুধের মতো কাজ করে। মাটির সংস্পর্শে এলে আমাদের শরীর পৃথিবী থেকে নেতিবাচক আয়ন গ্রহণ করে এবং ইতিবাচক আয়ন নির্গত করে। এই আয়নগুলোর ভারসাম্য শরীরে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে গভীর ঘুমে সহায়তা করে। ইয়োগা বা ধ্যানের সময় খালি পায়ে থাকা মস্তিষ্ককে আরও সচল ও স্বচ্ছ চিন্তা করতে সাহায্য করে।
ব্যথা উপশম ও সঠিক শারীরিক গঠন
ফ্যাশনেবল জুতো বা হাই-হিল পরার ফলে আমাদের হাঁটার ভঙ্গি ও শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এর ফলে ঘাড়, কোমর ও হাঁটুর ব্যথায় ভোগেন অনেকেই। খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের পাতা, গোড়ালি ও হাঁটুর পেশিগুলো মজবুত হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।
রক্ত সঞ্চালন ও হার্টের সুরক্ষা
খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পা থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। উন্নত রক্ত সঞ্চালন কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
ইন্দ্রিয় সচেতনতা ও প্রখর দৃষ্টিশক্তি
জুতো পরে হাঁটলে মাটির সাথে আমাদের স্নায়বিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। কিন্তু খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের পাতার স্নায়ুগুলো সরাসরি উদ্দীপিত হয়, যা মস্তিষ্কে দ্রুত সংকেত পাঠায়। এর ফলে মানুষের পঞ্চইন্দ্রিয় আগের চেয়ে অনেক বেশি সচল ও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায় বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
সকাল বা বিকেলে রোদের মধ্যে খালি পায়ে হাঁটলে শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সুস্থ ও দীর্ঘায়ু পেতে প্রতিদিন অন্তত কিছুক্ষণ মাটির সংস্পর্শে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি কেবল একটি শরীরচর্চা নয়, বরং প্রকৃতির সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি সহজ উপায়।

