খুনের পর বুক চাপড়ে বিলাপ, আজমেঢ়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রথম স্ত্রী! – এবেলা

খুনের পর বুক চাপড়ে বিলাপ, আজমেঢ়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রথম স্ত্রী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থানের আজমেঢ় জেলায় ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে খুন করার পর, অপরাধ ঢাকতে শোকাহত নারীদের ভিড়ে বসে বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন এক মহিলা। যন্ত্রণায় চিৎকার করে বারবার অজ্ঞান হওয়ার ভানও করছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ। প্রশাসনের দাবি, শোক প্রকাশের অভিনয় করা এই নারীই আসলে গোটা হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী। তিনি নিহত ব্যক্তির প্রথম স্ত্রী সুনীতা।

আজমেঢ় জেলার বরাদা থানার অন্তর্গত শ্রীরামপুরা গ্রামে জাতীয় সড়কের পাশে একটি জ্বলন্ত স্করপিও এসইউভি গাড়ি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। গাড়িটি থেকে পুলিশ তিনটি দগ্ধ মরদহে উদ্ধার করে এবং নিকটবর্তী একটি মাঠ থেকে আরও একটি দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রাম সিং চৌধুরি, তাঁর মা পূসী দেবী, দ্বিতীয় স্ত্রী সুর্যগ্যান দেবী এবং পিসির মেয়ে মহিমা চৌধুরি।

দুর্ঘটনার আড়ালে সুপরিকল্পিত খুন

আজমেঢ়ের পুলিশ সুপার (এসপি) হর্ষবর্ধন আগরওয়ালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তদন্তের অগ্রগতিতে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসতে শুরু করে। মৃতদেহগুলোর আঘাতের চিহ্ন দেখে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত খুন। মূলত প্রমাণ লোপাট এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই খুনের পর দেহগুলো গাড়িতে ভরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তের শুরুতে রাম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী সুনীতা পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, বুকে ব্যথার কারণে তাঁর শাশুড়িকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রাম সিং। এমনকি প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসে তিনি এমনভাবে কান্নাকাটি করছিলেন যে প্রথম দিকে কেউ তাঁকে সন্দেহের তালিকায় রাখেনি।

পারিবারিক বিবাদ ও হত্যাকাণ্ডের কারণ

পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই নৃশংস ঘটনার মূল উৎস ছিল তীব্র পারিবারিক কলহ। রাম সিংয়ের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রথম স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। একই বাড়িতে দুই স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথম স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা প্রায়শই রাম সিং এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তেন।

ঘটনার রাতে বাড়ির ভেতরে এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, সুনীতা তাঁর মেয়ে সরিতা এবং এক নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের ওই চার সদস্যের ওপর হামলা চালান। বাড়ির ভেতরেই তাঁদের হত্যা করার পর প্রমাণ ধ্বংসের জন্য দেহগুলো গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ মূল অভিযুক্ত সুনীতা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *