‘খোলা চিঠি’র চাপ নাকি অসুস্থতা? কুড়মিদের অনুষ্ঠান বর্জন ঘিরে গরম পুরুলিয়ার রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 202610:12 am
পুরুলিয়া: কড়াডিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ‘করম পরবতিআ মহা জড়ুআহি’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে পুরুলিয়ায়। উক্ত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে দেখা মেলেনি জেলার তিন আদিবাসী বিজেপি বিধায়কের— কাশীপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, মানবাজারের ময়না মুর্মু এবং বান্দোয়ানের লবসেন বাস্কে।
আদিবাসী ক্ষোভ ও খোলা চিঠি কুড়মিদের জনজাতি (ST) মর্যাদার দাবির বিরোধিতায় দীর্ঘদিন ধরেই পথে নেমে আন্দোলন চালাচ্ছেন স্থানীয় আদিবাসীরা। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের পক্ষ থেকে এই তিন বিধায়ককে অনুষ্ঠান বর্জনের আর্জি জানিয়ে খোলা চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।
সংগঠনের জেলা পারগানা রতনলাল হাঁসদা এ বিষয়ে বলেন, “ওঁরা ওই সভায় না গিয়ে আদিবাসী স্বার্থ রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও কুড়মিদের এসটি মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে কোনও বার্তা দেননি, যা আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।”
রবীন্দ্র ভবনের বৈঠক ও আমন্ত্রণ বিতর্ক এ দিন সন্ধ্যায় পুরুলিয়া রবীন্দ্র ভবনে জেলার ১৪টি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেখানে বেশ কিছু আদিবাসী সংগঠন অনুপস্থিত ছিল। লিখিত চিঠি না দিয়ে কেবল হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানোর কারণেই তারা যোগ দেয়নি বলে অভিযোগ রতনলাল হাঁসদার।
তবে বৈঠকে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ মুন্ডা কল্যাণ সমিতির রাজ্য সম্পাদক লক্ষ্মী নারায়ণ সিং সর্দার জানান, কুড়মিদের এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তাঁদের লিখিত আপত্তি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক ও বিজেপি শিবিরের সাফাই খোলা চিঠির প্রভাবে অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন অনুপস্থিত বিধায়করা। মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু ও বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে কাশীপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার দাবি, দলীয় কোনও নির্দেশ না থাকায় এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারেননি।
জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতো জানান, একই দিনে একাধিক কর্মসূচি থাকায় সময়ের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে এটাকে অন্য চোখে দেখার কোনও অবকাশ নেই।
