গঙ্গার জল কেন পচে না? বছরের পর বছর শুদ্ধ থাকার পেছনের আসল রহস্য ফাঁস করলেন বিজ্ঞানীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: পুজোর কাজে হোক বা বাড়িতে রাখা—গঙ্গার জল বছরের পর বছর রেখে দিলেও নষ্ট হয় না, পোকা ধরে না বা দুর্গন্ধ ছড়ায় না। সাধারণ কলের জল যেখানে কয়েক দিনেই শ্যাওলা পড়ে যায়, সেখানে গঙ্গার জলের এই দীর্ঘস্থায়ী শুদ্ধতার পেছনে কি শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাস? না, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গঙ্গার জলের এই বিশেষ গুণকে বলা হয় ‘স্বয়ং-শুদ্ধিকরণ’ (Self-Purifying Capacity)।
কেন নষ্ট হয় না গঙ্গার জল? জেনে নিন আসল কারণ:
- ‘ব্যাকটিরিওফাজ’ ভাইরাসের কারসাজি: গঙ্গার জলে ‘ব্যাকটিরিওফাজ’ নামক এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস থাকে। নাম শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এই ভাইরাস মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। এদের কাজ হলো জলে জন্ম নেওয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে খুঁজে বের করা এবং তাদের বংশবৃদ্ধি করার আগেই ধ্বংস করে ফেলা। ফলে জল সব সময় জীবাণুমুক্ত থাকে।
- অক্সিজেনের উচ্চ মাত্রা: গঙ্গা হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে পাহাড়ি খাড়াই পথ বেয়ে সমতলে নামে। তীব্র গতিতে পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে আসার সময় জলের সাথে প্রচুর অক্সিজেন মিশে যায়। উচ্চমাত্রার এই অক্সিজেন জলকে পচন থেকে মুক্ত রাখে।
- খনিজ ও ভেষজ গুণ: পাহাড়ি এলাকা থেকে বয়ে আসার সময় জলের সাথে মিশে যায় ওষধি গুণসম্পন্ন নানা খনিজ পদার্থ ও ভেষজ উপাদান। গঙ্গার তলদেশের শিলাগুলো প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা জলের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
১৩০ বছর আগেই প্রমাণ পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা
গঙ্গার এই গুণের কথা আজকের নয়। ১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আর্নেস্ট হ্যানবেরি হ্যানকিন লক্ষ্য করেন যে, গঙ্গার জল কলেরার ব্যাকটেরিয়াকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশা
বর্তমানে অনেক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গঙ্গার জলের এই ‘ব্যাকটিরিওফাজ’ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।
একটি জরুরি সতর্কবার্তা
তবে বিজ্ঞানীরা চরম উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন। নদী যদি প্লাস্টিক এবং শিল্পবর্জ্যে বিষিয়ে ওঠে, তবে গঙ্গার এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রকৃতি আমাদের যে অনন্য উপহার দিয়েছে, তাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব এখন মানুষেরই।
