‘গডফাদারের সাহস থাকলে প্রার্থী হোক!’ ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে খোলা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

‘গডফাদারের সাহস থাকলে প্রার্থী হোক!’ ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে খোলা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মুখে দাঁড়িয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনের (Fresh Poll) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, দিল্লির কোনো ‘গডফাদার’ বা শক্তিশালী নেতার সাহস থাকলে ফলতায় প্রার্থী হয়ে দেখান।

ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে সংঘাত

কমিশনের বিজ্ঞপ্তির পর বিজেপির আইটি সেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আদতে তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর পরাজয়। এর পাল্টা জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাবিরোধী গুজরাতি লবি এবং তাদের সহযোগীরা দশ জন্মেও এই মডেলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে ডায়মন্ড হারবার তথা ফলতার মানুষের জনসমর্থন টলানো সম্ভব নয়।

কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ দুই নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর এবং তিন কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কমিশনের বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি তবে ব্যর্থ? একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে সাসপেন্ড করার দাবিও তুলেছে জোড়া-ফুল শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, ফলতায় ভোট হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় আসন পেয়ে যাবেন।

কেন এই পুনর্নির্বাচন?

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্রে একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপি, ব্যালট ইউনিটে আঠা লাগানো এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে হাশিমনগর এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে হবে তার ফলাফল ঘোষণা। পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফলতায় এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *