গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাত! জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তিতে সরব জয়শঙ্কর – এবেলা

গণতন্ত্রের উপর চরম আঘাত! জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তিতে সরব  জয়শঙ্কর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ৫১তম বর্ষপূর্তিতে ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই দিনটিকে স্মরণ করে তাঁরা দুজনেই সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন। দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা রক্ষায় সেসময় যাঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অদম্য সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।

সংবিধানের উপর সরাসরি আক্রমণ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জরুরি অবস্থাকে ভারতের সংবিধানের উপর একটি ‘সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। সেসময় মত প্রকাশের অধিকার হরণ এবং কুখ্যাত মিসা (MISA) আইনের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে একইসঙ্গে এই দমননীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধও প্রকট হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ১৪০ কোটি ভারতীয়র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

গণতন্ত্রের চরম পরীক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মতে, জরুরি অবস্থার ওই সময়কাল ভারতের গণতন্ত্রের সহনশীলতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা নিয়েছিল। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’-এর কারণ দেখিয়ে এই জরুরি অবস্থা জারি করেন, যা ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত বহাল ছিল। এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, যা গোটা দেশের নাগরিক অধিকারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি কেবল অতীত নয়, বরং বর্তমান সময়ের জন্যও একটি সতর্কবার্তা, যা আমাদের প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় যে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা কতটা অপরিহার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *