গণতন্ত্রের উৎসবে বিশ্বরেকর্ড বাংলার! ৯২% ভোটদানে পুরুষদের ছাপিয়ে ফের ‘নির্ণায়ক’ নারীশক্তি

গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষে রাজ্যে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড। এই বিপুল জনজোয়ারের নেপথ্যে পুনরায় প্রধান নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলার নারী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের ৯১.০৭ শতাংশ হারকে ছাপিয়ে ৯২.২৮ শতাংশ নারী ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত।
নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং পেশিশক্তির প্রভাব রুখতে এবার নজিরবিহীন তৎপরতা দেখিয়েছে কমিশন। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫৩২.৮৮ কোটি টাকার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, মদ এবং ৩০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া ৩৯০টি অবৈধ অস্ত্র ও সহস্রাধিক বোমা উদ্ধারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা ও উত্তর কলকাতায় সর্বাধিক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও পোস্টার অপসারণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভোটার পরিষেবা
ভোটারদের অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক করতে এবারই প্রথম ইভিএম-এ প্রার্থীদের রঙিন ছবি ব্যবহারের মতো আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়ি থেকে যাতায়াতের সুব্যবস্থা এবং বুথে হুইলচেয়ারের সহজলভ্যতা ভোটদানের হার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। ১৪২টি আসনের ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন ইভিএম-বন্দি। আগামী ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে যে, ৩ কোটি ২১ লক্ষ ভোটারের এই রেকর্ডমুখী রায় শেষ পর্যন্ত নবান্নের দখল কার হাতে তুলে দেয়।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনে ৯২.৪৭ শতাংশ ভোটদানের মাধ্যমে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল পশ্চিমবঙ্গ।
- পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেশি, যা ফের বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।
- ৫৩২.৮৮ কোটি টাকার সামগ্রী ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কয়েকশ অস্ত্র উদ্ধার করেছে কমিশন।
- ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে রাজ্যের পরবর্তী প্রশাসনিক নেতৃত্ব।
