গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নজরদারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বলের বিস্ফোরক মন্তব্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সরব হলেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। গণনাকেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন শীর্ষ আদালতে খারিজ হলেও, সিব্বল দাবি করেছেন যে আদালতের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে। শুনানির এক পর্যায়ে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও আইনি লড়াই
তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক নিয়োগের কথা বলা হয়। সিব্বলের যুক্তি ছিল, কমিশনের সার্কুলারে রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ থাকলেও কেন বেছে বেছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের নেওয়া হচ্ছে? যদিও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, নিয়মানুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট উভয়ই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হতে পারেন এবং এতে নির্দেশিকা লঙ্ঘিত হয় না। আদালত সাফ জানায়, যখন বিকল্প খোলা রয়েছে, তখন কমিশনের পদক্ষেপকে অবৈধ বলা যায় না।
সিব্বলের মন্তব্য ও প্রশাসনিক প্রভাব
আদালতে সিব্বল অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে কি কোনো যুদ্ধ চলছে? তিনি বলেন, “বাংলায় যত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তা মণিপুর বা জম্মু-কাশ্মীরেও নেই। দেখে মনে হচ্ছে এলাকাটি অবরুদ্ধ বা সিজ করা হয়েছে।” তাঁর মতে, কেরালা বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে এমন কড়াকড়ি না থাকলেও কেবল বাংলার ওপর বিজেপির এই ‘বিশেষ নজর’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই আইনি লড়াই ও সিব্বলের মন্তব্যের ফলে সোমবারের ভোট গণনার আগে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। এর ফলে গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
