গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে গেলেই কিউআর কোড স্ক্যান! অবৈধ প্রবেশ রুখতে কমিশনের নজিরবিহীন কড়াকড়ি

ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর এবার ৪ মে সোমবারের গণনাসূচি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে বেআইনি প্রবেশ রুখতে এবং কারচুপি ঠেকাতে পরিচয়পত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আনা হচ্ছে। এবার থেকে গণনাকেন্দ্রের অনুমোদিত ব্যক্তিদের বিশেষ পরিচয়পত্রে কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের চূড়ান্ত অনুমতি মিলবে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও ত্রিস্তরীয় যাচাই
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে এবার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ভোটকর্মী থেকে শুরু করে প্রার্থী ও এজেন্টদের মোট তিনবার যাচাইকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রথমে কেন্দ্রের প্রবেশপথে, দ্বিতীয়বার গণনাকক্ষে যাওয়ার পথে এবং শেষবার কক্ষের ঠিক মুখে আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হবে। শেষ ধাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই কেবল ভেতরে ঢোকা সম্ভব হবে। রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ এবং প্রার্থীদের এজেন্টরা ছাড়া আর কারোরই এই বিশেষ কার্ড ব্যবহার করে প্রবেশের অধিকার থাকবে না।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি ও স্বচ্ছতা
ভোট গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। আগে মোতায়েন থাকা ২০০ কো ম্পা নি বাহিনীর বদলে আরও অতিরিক্ত জওয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রতিটি স্ট্রংরুমের পাহারায় থাকছেন অন্তত ২৪ জন জওয়ান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য পৃথক মিডিয়া সেন্টার থাকলেও, সেখানে প্রবেশের জন্য কমিশনের নির্দিষ্ট অনুমোদনপত্র থাকা আবশ্যক করা হয়েছে। মূলত আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো বহিরাগত বা অননুমোদিত ব্যক্তির অনুপ্রবেশ বন্ধ করাই কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- আগামী ৪ মে রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে।
- অবৈধ প্রবেশ রুখতে পরিচয়পত্রে এবার কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে।
- গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে হবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই।
- স্ট্রংরুম পাহারায় প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান থাকছেন।
