গত বছরের তুলনায় বাংলায় বাড়ল ১২,৪০০ নতুন দুর্গাপুজো! রবিবার থেকেই মিলবে সরকারি অনুদান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহালয়ার পুণ্যলগ্নে ইডেন গার্ডেন্সে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজ্যে প্রায় ১২,৪০০টি নতুন দুর্গাপুজো বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, নতুন ও পুরনো—সকল পুজো কমিটিতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। তাছাড়া, কলকাতার যে ২০০টি পুজো কমিটি এবার সরকারি অনুদান গ্রহণ করছে না, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। এবছর সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আরও ১২,৪০০টি নতুন পুজো যুক্ত হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হবে না। সেইমতো দেবীপক্ষের শুরুতেই আজকের এই জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন করা হলো।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, দুর্গাপুজোর আধুনিক ও সাংস্কৃতিক দিক বজায় রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু পঞ্জিকা মেনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের ওপরেও বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই ভাবনা থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা লগ্নে এই বিশেষ আয়োজনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার থেকেই ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
বিভিন্ন জেলায় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আগামী চার দিন, অর্থাৎ ষষ্ঠী পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, মালদা, বহরমপুর এবং দিঘার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে এই অনুষ্ঠানগুলি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মহালয়ার ভোরে শিউলি ফুলের সুবাস, ঢাকের বাদ্যি আর দেবীপক্ষের আবহে রাজ্যজুড়ে যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ইডেন গার্ডেন্সের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের মনে উৎসবের আমেজকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
