“গবাদি পশু এখন আর চাষে লাগে না, নোটিশ বদলানো হোক”: আদালতে সওয়াল বিকাশরঞ্জনের – এবেলা

“গবাদি পশু এখন আর চাষে লাগে না, নোটিশ বদলানো হোক”: আদালতে সওয়াল বিকাশরঞ্জনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিকাশরঞ্জনের প্রশ্ন ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, গোহত্যা আইনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কড়া সমালোচনা

গোহত্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি সরকারি নোটিশ সংশোধন করার দাবি জানিয়ে আইনি ও সামাজিক মহলে জোর বিতর্ক তৈরি করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ১৯৫০ সালের পুরোনো আইনি বিধিমালার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর আমূল পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

বাস্তবতার নিরিখে আইনের অসারতা

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, ১৯৫০ সালের নিয়মে কৃষিকাজে গবাদি পশুর উপযোগিতার কথা মাথায় রেখে গোহত্যা সীমিত করার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, আধুনিক যুগে তা অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক। বর্তমান যান্ত্রিকীকরণের যুগে কৃষিকাজে গবাদি পশুর ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে কয়েক দশক আগের তৈরি একটি নিয়মকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ধর্মীয় আচার ও পরিকাঠামোর অভাব

আইনি জটিলতার পাশাপাশি কসাইখানাগুলোর পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগের বিষয়টিও এই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কোনো পশুকে জবাই করার ক্ষেত্রে ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ না দেওয়া হলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার আইনি বিধান থাকলেও, পৌরসভা এলাকায় পর্যাপ্ত আধুনিক কসাইখানার অভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এটি একটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় আচার, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্যের পর গোহত্যা ও পশু অধিকার সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সংস্কারের দাবি নতুন করে গতি পেতে পারে। একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও খাদ্যাভ্যাসের অধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি আধুনিক পৌর পরিকাঠামো নির্মাণ ও আইনি জটিলতা অবসানের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এক ঝলকে

  • ১৯৫০ সালের গোহত্যা সংক্রান্ত সরকারি নোটিশটি সংশোধনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
  • আধুনিক যান্ত্রিক যুগে কৃষিকাজে গবাদি পশুর ব্যবহার হ্রাস পাওয়ায় পুরোনো আইনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
  • পৌরসভা এলাকায় পর্যাপ্ত কসাইখানা না থাকা এবং ধর্মীয় আচার উপেক্ষা করার বিষয়ের প্রতি নজর আকর্ষণ করা হয়েছে।
  • ফিটনেস সার্টিফিকেট না পেলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধানের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *