গয়ায় পিণ্ডদান সেরে ফেরা হল না, সিঙ্গুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শেষ একই পরিবারের ৪ প্রাণ! শোকের ছায়া ডানকুনিতে

হুগলির সিঙ্গুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে রতনপুর এলাকায় ডানকুন অভিমুখী লেনে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে চারচাকার গাড়িটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই বিপর্যয় ঘটে। গাড়িটিতে চালকসহ মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে নয়জনই একই পরিবারের সদস্য।
দুর্ঘটনার কারণ ও উদ্ধারকার্য
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভোরের কুয়াশা বা চালকের অসতর্কতার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত বাকি পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়ালস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
শোকের ছায়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
মৃতরা হলেন পরিতোষ কীর্তনীয়া, তাঁর স্ত্রী কাজল কীর্তনীয়া এবং তাঁদের দুই কন্যা ফুলি মুখোপাধ্যায় ও মিঠু বাগ। ডানকুনি থানার বাসিন্দা এই পরিবারটি গয়ায় পিতৃপুরুষের পিণ্ডদান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতীয় সড়কের ধারে যত্রতত্র ডাম্পার বা ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই দুর্ঘটনা তা পুনরায় প্রমাণ করল। হাইওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।
এক ঝলকে
নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের দুই বিবাহিতা কন্যা রয়েছেন।
সিঙ্গুরের রতনপুরে জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারে গাড়ির ধাক্কায় ৪ জনের মৃত্যু।
মৃতরা ডানকুনির একই পরিবারের সদস্য, তাঁরা গয়া থেকে পিণ্ডদান সেরে ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনায় চালকসহ আহত ৬ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
