গরমের তীব্রতায় স্বস্তি ফেরাতে পাতে আসুক লোভনীয় সবুজ খাবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরমে প্রকৃতির সবুজ যেমন চোখ ও মনকে প্রশান্তি দেয়, তেমনই খাবারের পাতেও সবুজের ছোঁয়া নিয়ে আসতে পারে এক অনন্য স্বস্তি। তবে প্রতিদিনের চেনা শাকসবজির একঘেয়েমি অনেক সময়ই ছোট থেকে বড় সবার খাবারের রুচি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে বাড়ির খুদে সদস্যরা সবুজ সবজি দেখলে প্রায়ই নাক সিঁটকায়। এই গরমে পরিবারের সবার স্বাদ বদলাতে এবং খাবারে নতুনত্ব আনতে কৃত্রিম কোনো রঙ ছাড়াই তৈরি করা যেতে পারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে ভরা লোভনীয় কিছু সবুজ খাবার। সাধারণ কিছু রান্নায় সামান্য কৌশলী পরিবর্তন আনলেই তা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, তেমনই মুখেও আনে ভিন্ন সোয়াদ।
মুখরোচক খাবারে সবুজের জাদু
বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় চাউমিন কিংবা নুডলসে সসের ব্যবহার কমিয়ে তৈরি করা যেতে পারে ‘থেচা চাউমিন’। শুকনো লঙ্কা, রসুন ও চিনে বাদাম হালকা নেড়ে নিয়ে তার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ধনেপাতা মিশিয়ে একটি বিশেষ সবুজ মশলা তৈরি করা হয়। রান্নার সময় এই মশলা ব্যবহারের ফলে চাউমিনটি একটি সুন্দর সবুজ রঙ ধারণ করে এবং ধনেপাতার সুবাস গরমে খাবারে আনে সতেজতা। একইভাবে, দুপুরের বা রাতের খাবারে একঘেয়েমি কাটাতে তৈরি করা যায় ‘লিফু রাইস’। এটি মূলত একটি সবুজ ফ্রায়েড রাইস, যেখানে পেঁয়াজপাতা, সুইট বেসিল, সবুজ ক্যাপসিকাম ও কাঁচালঙ্কার মিশ্রণ ব্যবহার করে ভাতকে সবুজ রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়। এর সঙ্গে চিকেন ও চিংড়ির উপস্থিতি খাবারটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু করে তোলে। এমনকি সকাল বা সন্ধ্যার জলখাবারেও সাধারণ সাদা লুচির বদলে পালং শাক বা কড়াইশুঁটি ভাপিয়ে, তা আদা-জিরে-কাঁচালঙ্কা সহ বেটে ময়দার সঙ্গে মেখে তৈরি করা যায় চমৎকার ‘সবুজ লুচি’।
রঙের ভিন্নতায় রুচি বদল ও প্রভাব
গ্রীষ্মের এই সময়ে তীব্র গরমের কারণে সাধারণ খাবারে অনীহা তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। এই ধরনের আকর্ষণীয় ও ভিন্ন রঙের খাবার পরিবেশন করলে তা প্রথম দেখাতেই খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে শিশুদের সবজি খাওয়ানোর যে চিরন্তন সমস্যা, তা এই কৌশলে অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব হয়। পালং শাক, কড়াইশুঁটি বা ধনেপাতার মতো পুষ্টিকর উপাদানগুলো রান্নায় এভাবে ব্যবহারের ফলে স্বাদের পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণও বজায় থাকে। কৃত্রিম রঙের ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারকে আকর্ষণীয় করার এই পদ্ধতি গরমের দিনে পরিবারের সবার ক্লান্তি দূর করে খাবারে অনাবিল তৃপ্তি ফিরিয়ে আনতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
