গর্ভাবস্থায় নীরব সংক্রমণের ঝুঁকি, মা ও শিশুর সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় অনেক সময় শরীরে এমন কিছু সংক্রমণ বাসা বাঁধে, যার কোনো বাহ্যিক উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সাইটোমেগালো ভাইরাস (CMV), টক্সোপ্লাজমোসিস বা রুবেলার মতো এই ‘নীরব সংক্রমণ’গুলো মায়ের শরীরে জ্বর বা ব্যথার সৃষ্টি না করলেও গর্ভস্থ ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই ধরনের ভাইরাসের উপস্থিতি শিশুর জন্মগত হৃদরোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কাঁচা মাংস সেবন কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের সংস্পর্শ থেকে এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মা সুস্থ বোধ করলেও গর্ভপাত বা শিশুর বিকাশে বিলম্বের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল শারীরিক অসুস্থতার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল চেক-আপ এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করানোই মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
সংক্রমণ এড়াতে গর্ভাবস্থার আগে টিকাকরণ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে এই সুপ্ত রোগগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ বোধ করা মানেই বিপদমুক্ত থাকা নয়; বরং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে।

