গার্ডেনরিচে ‘জমি দুর্নীতি’! কলেজের অডিটোরিয়াম কেলেঙ্কারিতে জড়াল প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম – এবেলা

গার্ডেনরিচে ‘জমি দুর্নীতি’! কলেজের অডিটোরিয়াম কেলেঙ্কারিতে জড়াল প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকায় হরিমোহন ঘোষ কলেজের জমি ও অডিটোরিয়ামকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এল এক বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। আর এই আর্থিক অনিয়মের তদন্তে নাম জড়াল খোদ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা রাজ্যের শাসকদলের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অ্যান্টি-করাপশন কমিশন বা দুর্নীতি দমন শাখা।

তদন্তে কীভাবে এল প্রাক্তন স্পিকারের নাম? সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার ১৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৫ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান রঞ্জিত শীলকে দীর্ঘ জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এই জেরার পরেই কলেজের জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মে গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও তাঁর নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে।

বিতর্কের কেন্দ্রে কী? মূল অভিযোগ হলো, হরিমোহন ঘোষ কলেজের নিজস্ব জমিতে তৈরি একটি প্রাতিষ্ঠানিক অডিটোরিয়ামকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চড়া দামে ভাড়া দেওয়া হতো। কলেজের সম্পত্তি এভাবে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা নিয়মবিরুদ্ধ। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আসল মাথা কে? এবং তৎকালীন সভাপতি হিসেবে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কি এর অনুমোদন দিয়েছিলেন?

অভিযোগ ওড়ালেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই ‘জমি দুর্নীতি’র সমস্ত অভিযোগকে কড়া ভাষায় খারিজ করেছেন প্রাক্তন স্পিকার। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য একটি অভিযোগ। আমি কখনওই কোনও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, এখনও নেই। এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি।”

অডিটোরিয়াম নির্মাণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও জানান, একসময় গার্ডেনরিচ এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য কোনও উপযুক্ত প্রেক্ষাগৃহ ছিল না। তাই স্থানীয় মানুষ ও বরো কমিটির যৌথ উদ্যোগে, কোনও রকম সরকারি অনুদান ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি পুরোপুরি কলেজের নিজস্ব প্রশাসনের অধীনেই পরিচালিত হয়।

আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *